আজ সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ সনাতন পার্টিনারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি টনি মল্লিকের নেতৃত্ত্বে জেলা সনাতন পার্টিও নেতৃবৃন্দসহ ঐতিহাসিক লক্ষিনারায়ণ কটন মিলস দুর্গা মন্দির অবৈধ দখলমুক্ত ও ভক্তবৃন্দের নিরাপত্তা নিশ্চত করতে জেলা প্রশাসক রায়হান কবীরের নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১০নং ওয়ার্ডে ৪ (চার)বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী পুরাতন লক্ষীনারায়ণ কটন মিল দূর্গা মন্দির,পুকুর ও মাঠ ২০১২ সাল থেকে শিল্প প্রতিষ্ঠান নীট কনর্সানগ্রুপ জোর-জবরদস্তি করে দখলের পাঁয়তারা করে আসছে। ঐতিহাসিক এই মন্দিরে ৮২ বছরের বেশি সময় ধরে ভক্তবৃন্দ ও শেয়ারহোল্ডারগণ নির্বিঘেœ নিয়মিত পূজা অর্চনা করলেও সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান,শামীম ওসমান এবং সামসুদ্দিন প্রধানের নেতৃত্ত্বাধিন পরিচালনা পর্ষদের যোগসাজসে অবৈধ ভাবে মিলটি দখলে নেওয়ার পর থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতনী ভক্তবৃন্দের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে পূজা অর্চনাসহ সকল ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বন্ধ করে রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ১৭ জুন ২০২৩ইং তারিখে প্রার্থনার স্থানটির স্মৃতি চিহ্ন গুড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য অবৈধ বোল্ডজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। পরে সনাতনী ভক্তবৃন্দ প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে মন্দির সংস্কার করে। এ সময় তৎকালীন পুলিশ সুপার উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা পরিষদ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে মন্দিরের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন এবং আপনার হস্তক্ষেপে দূর্গা পূজার আয়োজন করতে সক্ষম হয়। তবে দশমী অন্তে মন্দির প্রাঙ্গণ দখলমুক্ত করে লক্ষীনারায়ণ কটন মিলস দুর্গা মন্দির কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেয়ার আশ^াস দিলেও নীট কনর্সান গ্রুপের অদৃশ্য প্রভাবে সকল প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তিতে ২০২৪ সালে পূজা ঠিক আগমুর্হুতে মন্দিরের স্মৃতি চিহ্ন গুড়িয়ে দিতে মন্দির ভাংচুর করেছে দুষ্কৃতিকারীরা। আবারও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সাথে একাধিকবার বৈঠকে আমাদের আশস্ত দেয়া হয় পূজার পরে মন্দিরের জমি স্থায়ী ভাবে মন্দির কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে। সেই সময় থেকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত মন্দির সংক্রান্ত সমস্যার সামাধান পাননি ভক্তবৃন্দ বরং নীট কনর্সান গ্রুপ মন্দিরে ভক্তবৃন্দের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে মন্দির প্রাঙ্গণে বহিরাগতদের নিয়ে খেলাধুলার নাম দিয়ে মন্দিরের জায়গা অবৈধ দখলের ষড়যন্ত্র করছে। যা ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে। যেহেতু দুষ্কৃতিকারীরা মন্দিরের স্মৃতি চিহ্ন নষ্ট করতে বারবার মন্দিরে হামলা ও ভাংচুর করেছে। এতে মন্দিরের চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরী হয়েছে।
আসন্ন দুর্গা পূজার আগেই মন্দির অবৈধ দখলমুক্ত করে মন্দিরের সীমানা নির্ধারনপূর্বক নিবিঘের্œ পূজা উদযাপন নিশ্চিতে ঐতিহাসিক উপাসনালয়টি মন্দির পরিচালনা কমিটির কাছে বুঝিয়ে দিতে প্রশাসনসহ দেশের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নারায়ণগঞ্জে সর্বস্তরের সনাতন র্ধমাবলম্বীরা। স্মারকলিপি প্রদানকালে জেলা সনাতন পার্টিও নেতৃবৃন্দসহ লক্ষিনারায়ণ কটন মিলস দুর্গা মন্দিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগন উপস্থিত ছিলেন।
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
- Click to email a link to a friend (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on X (Opens in new window)
