মাদারীপুরের ডাসারে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন এক নারী। তার দাবি, পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাদের। সব হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব। এর জেরে তিনি অনশনে বসেছেন। প্রেমিক বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন ২২ বছরের ওই তরুণী।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাতে উপজেলার পূর্ব কমলাপুর গ্রামের কম্পিউটারের দোকানি নাসির উদ্দিন মাতুব্বরের বাড়িতে অনশনে বসেন ওই প্রেমিকা ।
ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, ২০২১ সালের ১০ জুন উপজেলার কমলাপুর বাজারে নাসিরের কম্পিউটারের দোকানে ফোন মেরামত করতে গিয়েই তাদের পরিচয়। সেখান থেকেই শুরু হয় প্রেমের সম্পর্ক। এরপর দুজনে কুয়াকাটাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যান এবং তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে চলে যান ওই তরুণী। দেশে ফিরে প্রেমিক নাসিরকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। কিন্তু বিয়েতে উদাসীনতা দেখাতে থাকেন প্রেমিক। একপর্যায়ে প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে হতাশ হয়ে প্রেমিকা সরাসরি প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন।
এদিকে, অনশনের খবর ছড়িয়ে পরলে এলাকাবাসীর ভিড় জমে নাসিরের বাড়িতে। অনেকে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও এখনো কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
অনশনরত তরুণী বলেন, ‘নাসির আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যা করব। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। ও আমার কাছ থেকে সব ডকুমেন্টও নিয়ে গেছে। যতক্ষণ না নাসির আমাকে বিয়ে করে আমি এ বাড়ি ছেড়ে যাব না। ’
তবে নাসিরের বাবা খলিল মাতুব্বর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার ছেলের সাথে মেয়েটির কোনো সম্পর্ক নেই। সে দেড় মাস আগে বিদেশে গেছে। ৫ বছর প্রেম করছিল, অথচ ঘোরাঘুরি বা সম্পর্কের কোনো প্রমাণ নেই। তাহলে কীভাবে আমি মেনে নেব যে, সে আমার ছেলের স্ত্রী হতে চায়?
এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাতক চাকমা বলেন, ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। প্রেমিকার অনশন নিয়ে যদি নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে ভুক্তভোগী চাইলে আইনি সহায়তা পেতে পারেন। থানা পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ মেয়েটির প্রতি সহানুভূতি জানালেও, কেউ আবার ঘটনার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
প্রেমভাঙনের এমন নাটকীয় পরিণতি যেন আবারও প্রমাণ করল, ভালোবাসা যখন প্রতারণায় রূপ নেয়, তখন তা সামাজিক অস্থিরতা ও মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। এখন দেখার বিষয়—আইনি পদক্ষেপে ঘটনার কী পরিণতি ঘটে।
