মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের চাপ এখন স্বর্ণের বাজারেও পড়েছে। এক কেজি ওজনের স্বর্ণের বারে ৩৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় বিশ্ববাজারে ধাতুটির দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী।
গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪০০ ডলারেরও বেশি, যা এক দিন আগেও ছিল ৩ হাজার ৩৭২ ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৭০ শতাংশ অপরিশোধিত স্বর্ণ প্রক্রিয়াকরণকারী দেশ সুইজারল্যান্ড। এখানকার ভ্যালকাম্বি, প্যাম্প, মেটালের মতো বড় বড় রিফাইনারিরা স্বর্ণ সরবরাহ করে থাকে আন্তর্জাতিক বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে সুইস স্বর্ণ রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। নতুন শুল্কে তার দুই-পঞ্চমাংশই এখন পড়ছে শুল্কের আওতায়।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বর্ণ বাজারে এই শুল্কের প্রভাব ততটা পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে যেসব ব্যবসায়ী এক কেজি স্বর্ণের বার নিয়ে ব্যবসা করেন, তারা এখন আগেভাগে ডেলিভারির জন্য জরুরিভিত্তিতে অর্ডার দিচ্ছেন। এর ফলে বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে গেছে এবং দাম ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।
সেঞ্চুরি ফিন্যান্সিয়ালের প্রধান বাজার বিশ্লেষক আরুন জন বলেন, আমাদের ব্যবসায়ীরা এখনো সুইজারল্যান্ড থেকে শুল্ক ছাড়াই স্বর্ণ আমদানি করতে পারছেন।
স্বর্ণের আন্তর্জাতিক দামের প্রভাবে দুবাইয়ের বাজারেও দর উঁচুতে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম উঠেছে ৩৭৮ দশমিক ৭৫ দিরহাম প্রতি গ্রামে, যা ২১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ (তখন ছিল ৩৮০ দিরহাম)। শিগগিরই তা ৩৮০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।
এদিকে সর্বশেষ সমন্বয়ের পর দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, বুধবার (৬ আগস্ট) সবশেষ সমন্বয় করা দামেই দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে ভরিপ্রতি সোনার দাম ১ হাজার ৫৭৪ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত জানায় বাজুস।
সে অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা এখন বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬০১ টাকায়। ২১ ক্যারেট ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতি ১ লাখ ১৬ হাজার ১২৭ টাকা।

3 Replies to “ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের চাপ এখন স্বর্ণের বাজারেও পড়েছে ,”
Comments are closed.