খুলনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া জুট মিলের হাজার হাজার শ্রমিকদের ও কর্মচারীর পরিবারের দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে।
নতুন করে মিলগুলো চালু করে উপার্জনের মাধ্যম ফিরিয়ে দেয়ার দাবি শ্রমিকদের।
খুলনার একসময়ের কর্মচাঞ্চল্য মিলগুলোতে এখন সুনসান নীরবতা।
মিলের চাকা থামার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে হাজার হাজার শ্রমিকের উপার্জনের মাধ্যম।
এতে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
সরজমিনে দেখা যায়, খালিশপুরের প্লাটিনাম জুট মিলের প্রধান ফটকের সামনের রেললাইনের দুই পাশে পাটকল শ্রমিকদের বসতি।
একসময় ঈদ-পূজায় তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ থাকলেও উৎসবের রং এখন তাদের ছোঁয়া দেয় না।
নতুন করে আবার কবে পাটকল চালু হবে, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন শ্রমিকরা। একই রকম চিত্র অন্য পাটকলগুলোর শ্রমিকদেরও।
বন্ধ হওয়া নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল হচ্ছে, ক্রিসেন্ট জুট মিল, প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল,
দৌলতপুর জুট মিল, স্টার জুট মিল, ইস্টার্ন জুট মিল, আলিম জুট মিল, জেজেআই জুট মিল ও কার্পেটিং জুট মিল।
২০২০ সালের পহেলা জুলাই বন্ধ করে দেয়া ৯টি পাটকলের শ্রমিক সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার।
এ ছাড়া নামের বানান ভুল, মামলা-সংক্রান্ত জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে এখনও নগদ টাকা ও সঞ্চয়পত্র পাননি ৯টি পাটকলের প্রায় হাজার খানেক স্থায়ী ও বদলি শ্রমিক।
তাদের পাওনার পরিমাণ প্রায় ৮৯ কোটি টাকা। আর শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ ও উৎপাদন চালুর দাবি শ্রমিক নেতাদের।
প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক-কর্মচারী কলোনির ২ নম্বর গেটসংলগ্ন একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন মন্টু মিয়া।
তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় ছেলে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে।
তার সামান্য আয় দিয়ে কোনো রকমে চলছি। সঞ্চয়পত্র পেলে মাসে কিছু টাকা আসত। ঘর ভাড়া, বাজারঘাট, বিদ্যুৎ বিলসহ অনেক খরচ।
মিল হঠাৎ করে বন্ধ হওয়াতে ছেলেদের ওপর চাপ পড়েছে। কারও কাছে হাতও পাততে পারি না।
একই মিলের আরেক শ্রমিক মহিউদ্দিন বলেন, ‘নামের বানানে ভুল ছিল। মিল কর্তৃপক্ষ মহিউদ্দিনের পরিবর্তে মঈনউদ্দীন লিখেছে।
সেই ভুলের জন্য এখনও ভুগতে হচ্ছে। এ জন্য আরও ৮ লাখ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও দিচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
