খেলাপি ঋণ আদায়ের ব্যর্থতা ঢাকতেই দীর্ঘদিন ধরে সুদের হার বাড়িয়ে রেখেছে ব্যাংকগুলো। যা বাধা হয়ে আছে ব্যবসা স¤প্রসারণের পথে। এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। বিভিন্নভাবে হিডেন চার্জ গ্রাহকের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়াকে জালিয়াতি হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিনিয়োগ বাড়াতে খেলাপি ঋণ আদায়ে দরকার চলমান সংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতি। ব্যাংক ঋণে সুদহার নির্ধারণে ছয়-নয় সীমা তুলে দিয়ে ২০২৩ সালে জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে সিক্স মান্থস মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল বা ট্রেজারি পদ্ধতি। এতে দীর্ঘদিন ঋণের বিপরীতে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব, গত মার্চে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকায়। তিন মাসে বেড়েছে ৭৪ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। ৬১ ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে মাত্র ১০ ব্যাংকেই হয়েছে ৩ লাখ ২৮ কোটি টাকা। এই লাগামহীন খেলাপির জের টানতেই গ্রাহকের ওপর উচ্চ সুদহার চাপিয়ে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ী নেতাদের।
নিট শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ব্যাংকের অডিট ডিপার্টমেন্ট না থাকায় অডিট হয় নি। কিন্তু এর দায় চাপানো হচ্ছে গ্রাহকদের ওপর। নন পারফর্মিং লোনের দায়গুলো সুদহার বাড়িয়ে দিয়ে ভালো গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে। এটি কখনোই কাঙ্খিত নয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে সালমা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সুরাইয়া স্পিনিং মিলসের ৮২ কোটি টাকার ফান্ডেড এবং ৬ কোটি টাকা নন-ফান্ডেড ঋণ গত বছরের জুন থেকে অনাদায়ী। আরেক প্রতিষ্ঠান বিএসবি স্পিনিং মিলসের ৫৮ কোটি টাকার ফান্ডেড এবং ৮ কোটি টাকার নন-ফান্ডেড দায় গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অনাদায়ী। গ্রুপের দবির স্পিনিং মিলসের ৭৬ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া তাজউদ্দিন টেক্সটাইল মিলসের ১০৩ কোট টাকার মধ্যে ৯৯ কোটি টাকা খেলাপি। ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সাব স্ট্যান্ডার্ড মানে শ্রেণীকৃত। নিয়মিত রয়েছে কেবল ৭৪ লাখ টাকা। এছাড়া গ্রুপটির আরেক প্রতিষ্ঠান সালমা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ৭৯ কোটি টাকা সাব স্ট্যান্ডার্ড মানে শ্রেণীকৃত।
এদিকে ১১৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে পারটেক্স কোল লিমিটেডের বন্ধকি সম্পদ নিলামে তুলেছে ব্যাংক এশিয়া। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবেল আজিজ, যিনি সিটি ব্যাংকের পরিচালকও। আগ্রহীরা আগামী ৩ আগস্ট পর্যন্ত নিলামে অংশ নিতে পারবেন। নিলামে তোলা বন্ধকি সম্পদগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা ও গাজীপুরে অবস্থিত ২৫৯.৩৬ শতক জমি এবং কারখানা ভবন।
ব্যাংক এশিয়ার একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের শেষ ধাপ নিলামের মাধ্যমে সম্পত্তি বিক্রি করে পাওনা আদায়। এ পর্যায়ে আসতে কয়েক ধাপ পেরুতে হয়েছে। এর মানে বেশ আগেই তিনি ঋণ খেলাপি।

2 Replies to “খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থতা,সুদের হার বাড়িয়ে ব্যাংকগুলো”
Comments are closed.