বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাপী পাসপোর্টের শক্তিমত্তা নিয়ে প্রকাশিত হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রতিবেদনে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এবার দেশের অবস্থান ৯৪তম, যেখানে আগের বছর ছিল ৯৭তম। যদিও সূচকে অগ্রগতি হয়েছে, তবুও আগাম ভিসা ছাড়া মাত্র ৩৯টি দেশে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা।

বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্ট নিয়ে ২০২৫ সালের তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স। তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশ তিন ধাপ অগ্রসর হয়ে এবার ৯৪তম স্থানে উঠে এসেছে।

এই সূচকটি তৈরি করা হয় আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা আইএটিএ–এর ২০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। মোট ১৯৯টি দেশের পাসপোর্টকে ভিত্তি ধরে এ সূচক প্রস্তুত করা হয়। মূলত বিশ্বব্যাপী ২২৭টি গন্তব্যে ভিসাবিহীন বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধায় যাতায়াত কতটি দেশের জন্য উন্মুক্ত, সেই সংখ্যার উপর ভিত্তি করেই পাসপোর্টের শক্তিমত্তা নির্ধারিত হয়।

সূচকে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ ১৯৩টি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ দিয়ে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, যাদের পাসপোর্টধারীরা ১৯০টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া যেতে পারেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি ও স্পেন—এ দেশগুলোর নাগরিকেরা ১৮৯টি দেশে যাতায়াত করতে পারেন আগাম ভিসা ছাড়াই।

শীর্ষ দেশগুলো:

১ম অবস্থান: সিঙ্গাপুর – ১৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার।

২য় অবস্থান: জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া – ১৯০টি দেশ।

৩য় অবস্থান: ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি ও স্পেন – ১৮৯টি দেশ।

৪র্থ অবস্থান: অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পর্তুগাল ও সুইডেন – ১৮৮টি দেশ।

৫ম অবস্থান: গ্রিস, নিউজিল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ড – ১৮৭টি দেশ।

৬ষ্ঠ অবস্থান: যুক্তরাজ্য – ১৮৬টি দেশ।

৭ম অবস্থান: অস্ট্রেলিয়া, চেক রিপাবলিক, হাঙ্গেরি, মাল্টা, পোল্যান্ড – ১৮৫টি দেশ।

৮ম অবস্থান: কানাডা, এস্তোনিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত – ১৮৪টি দেশ।

৯ম অবস্থান: ক্রোয়েশিয়া, লাটভিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া – ১৮৩টি দেশ।

১০ম অবস্থান: আইসল্যান্ড, লিথুনিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র – ১৮২টি দেশ।

এই সূচক অনুযায়ী, পাসপোর্টের বৈশ্বিক শক্তিমত্তায় বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে থাকলেও ধাপে ধাপে অগ্রগতি হচ্ছে, যা ভ্রমণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত