ট্রাম্পের এক ঘোষণায় কমছে তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ক্রমাগত কমছে তেলের দাম।

গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে তেলের দাম। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম আরও ৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৬৮ ডলার।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ইরানের হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র, অর্থাৎ হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছে দেশটি। সে কারণে গতকাল সোমবার বিশ্বের সব গণমাধ্যমেই এই হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব নিয়ে সংবাদ ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে।

ইসরায়েল–ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ইরানের সংসদে ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার দেশটির নিরাপত্তা কাউন্সিলের। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে যাবে। এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতিদিনই কিছু কিছু না বাড়ছে। খবর বিবিসি, আল–জাজিরা, রয়টার্সের।

বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি হরমুল প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ এক মাসের জন্য অর্ধেকে নেমে আসে এবং পরবর্তী ১১ মাসে তা ১০ শতাংশ কমে যায়, তাহলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম অস্থায়ীভাবে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। নানা ধরনের হিসাব কষে দেখিয়েছে গোল্ডম্যান স্যাকস। তার মধ্যে আরেকটি হিসাব হলো, ইরানের তেল সরবরাহ দৈনিক সাড়ে ১৭ লাখ ব্যারেল কমে গেলে ব্রেন্টের ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ৯০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে ২০২৬ সালের মধ্যে সরবরাহ স্থিতিশীল হলে তা ৬০-৭০ ডলারের মধ্যে নেমে আসবে।

আজ মঙ্গলবার। যুদ্ধবিরতি পর দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় দুই ডলার কমেছে।যুদ্ধবরিতির পর দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় দুই ডলার কমেছে।

 

অন্যদিকে আরেক বিনিয়োগ ব্যাংক জে পি মরগ্যানের বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে দিয়েছেন, অতীতে মধ্যপ্রাচ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তেলের দাম হঠাৎ করে ৭৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে—দীর্ঘ মেয়াদে বেড়েছে গড়ে ৩০ শতাংশ। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইরানে সরকার পরিবর্তনের কথা বলেছেন।

শেয়ার ফিউচার্সের পতন

বৈশ্বিক গণমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়েছে। গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে; নাসডাক ফিউচার্স কমেছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলোর সূচক নিয়ে (জাপান বাদে) মর্গান স্টানলির তৈরি এমএসসিআই সূচক শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পড়ে গেছে আর জাপানের নিক্কি সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ।

ইউরোপের বাজারেও পতনের ধারা দেখা গেছে। ইউরোস্টকস ৫০ ফিউচার সূচক শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ, এফটিএসই ফিউচার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ ও ডিএএক্স ফিউচার সূচক শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।

মুদ্রাবাজারের অবস্থা

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সাধারণত সোনা ও ডলারের মান বাড়ে। তবে এবার এখন পর্যন্ত সেই প্রবণতা খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলারের মান বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে প্রতি ডলারে পাওয়া যাচ্ছে ১৪৬ দশমিক ৪৮ ইয়েন। অন্যদিকে ইউরোর বিপরীতে ডলারের মান শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ইউরোতে পাওয়া যাচ্ছে ১ দশমিক ১৪৮১ ডলার।

বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগমাধ্যম হলো যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ড। কিন্তু গতকাল এই বন্ডের বিষয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি দেখা যায়নি, বরং ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২ ভিত্তি পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশে।

ইরান কি হরমুজ বন্ধ করতে পারবে

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) প্রতিবেদন অনুসারে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়, যা তেলের বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ২১ শতাংশ।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৭০ শতাংশেরই ভোক্তা দক্ষিণ এশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ফিলিপাইন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাও সরাসরি মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ব্যত্যয়ের প্রতিক্রিয়া এসব দেশের জ্বালানি তেলের বাজারেও পড়বে

মুদ্রাবাজারের অবস্থা

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সাধারণত সোনা ও ডলারের মান বাড়ে। তবে এবার এখন পর্যন্ত সেই প্রবণতা খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলারের মান বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে প্রতি ডলারে পাওয়া যাচ্ছে ১৪৬ দশমিক ৪৮ ইয়েন। অন্যদিকে ইউরোর বিপরীতে ডলারের মান শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ইউরোতে পাওয়া যাচ্ছে ১ দশমিক ১৪৮১ ডলার।

বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগমাধ্যম হলো যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ড। কিন্তু গতকাল এই বন্ডের বিষয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি দেখা যায়নি, বরং ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২ ভিত্তি পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশে।

ইরান কি হরমুজ বন্ধ করতে পারবে

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) প্রতিবেদন অনুসারে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়, যা তেলের বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ২১ শতাংশ।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৭০ শতাংশেরই ভোক্তা দক্ষিণ এশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ফিলিপাইন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাও সরাসরি মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ব্যত্যয়ের প্রতিক্রিয়া এসব দেশের জ্বালানি তেলের বাজারেও পড়বে।

 

 

এন এ এন টিভি