মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্প্রতি আরোপ করা শুল্ক বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
নিজস্ব একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ভারত এবং চীনের ওপরে ট্রাম্প প্রশাসন যে হারে শুল্ক আরোপ করেছে তাতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের সামনে মার্কিন বাজারে ২০৫ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার সকালে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত মোয়াজ্জেম হোসেন স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মোয়াজ্জেম হোসেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এর প্রয়াত সম্পাদক এবং ইআরএফের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি।
তিনি বলেন, ভারত এবং চীনের ওপরে ট্রাম্প প্রশাসন যে হারে শুল্ক আরোপ করেছে তাতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের ২০৫ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের ওপর বাংলাদেশের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি শুল্কারোপ করায় ১২০ থেকে ২০৭ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর চীনের ওপরে বেশি শুল্কারোপ করার কারণে সাত থেকে পঁচিশ মিলিয়ন ডলার বেশি রপ্তানি হতে পারে মার্কিন বাজারে।
তিনি আরও বলেন, সার্বিকভাবে বাংলাদেশ ‘মধ্যম আয়ের দেশ’ এর ফাঁদে আটকে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, দুর্দশাগ্রস্থ ব্যাংক খাত, লজিস্টিক সিস্টেমের দুর্বলতা, অনুন্নত লেবার মার্কেট ও প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় এর অন্যতম কারণ।
ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ট্রাম্পের শুল্ক বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ভারতের ওপরে বাংলাদেশের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি শুল্কারোপ করায় ১২০ থেকে ২০৭ কোটি ডলার বেশি রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর চীনের ওপরে বেশি শুল্কারোপ করার কারণে ৭০ লাখ ডলার থেকে আড়াই কোটি ডলার বেশি রফতানি হতে পারে মার্কিন বাজারে।
