রাজনৈতিক প্লাটফর্ম বৃহত্তর সুন্নী জোটের আত্মপ্রকাশ

তিনটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘বৃহত্তর সুন্নী জোট’ নামে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। জোটভুক্ত দলগুলো হলো- বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)।

শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় শায়খুল হাদিস অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর জুলাই ’২৪ হত্যাকাণ্ডে যেমন ভয়াবহ রক্তপাত হয়েছে, তেমনি আর কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে এত প্রাণহানি ঘটেনি। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, শহিদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং পূনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সরকার জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এক বছরে মব ভায়োলেন্স, সন্ত্রাস, খুন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি শতাধিক মসজিদ-মাদরাসা ও মাজারে হামলা, অগ্নিসংযোগ হয়েছে, অথচ সরকার নির্বিকার থেকেছে।

পিআর নির্বাচন পদ্ধতি প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর বলেন, সংখ্যাপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি একটি নতুন কনসেপ্ট। এতে জনগণ গভীর সংশয় ও বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক। এ ধরনের পদ্ধতি জাতীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এর মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ৫ আগস্ট পরবর্তী সরকার জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বিগত ১ বছরে মব ভায়োলেন্স, সন্ত্রাস, খুন, গুমসহ অসংখ্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অতীতের ন্যায় অব্যাহত রয়েছে। চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার, দখল-বেদখল এর মতো ঘটনায় জনজীবন ওষ্ঠাগত বলে মন্তব্য করে আরও বলা হয়- এ যাবৎ শতাধিক মসজিদ, মাদরাসা ও মাজারসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা, ভাঙচুর তথা অগ্নিসংযোগের মতো নেতিবাচক ঘটনা ঘটেছে। এক্ষেত্রে সরকারের নির্লিপ্ত ও নির্বিকার ভূমিকা জনমনে ক্রমাগত ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতীয় জীবনে প্রতিহিংসার রাজনীতি জগদ্দল পাথরের ন্যায় চেপে বসেছে। নির্বাচন এর সময় ঘোষিত হলেও এখনো এতদসংক্রান্ত ধোঁয়াশা কাটেনি।

বিগত এক বছরেও সংস্কার দৃশ্যমান হয়নি। সরকার সংশ্লিষ্ট অনেকেরই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ২৪ এর আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করে আরও বলা হয় পিআর পদ্ধতি একটি নতুন কন্সেপ্ট, এতে জনগণ সংশয় ও বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক। এছাড়া জাতীয় নীতি নির্ধারণে সকল নিবন্ধিত দলের অংশগ্রহণ ও নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করণ, জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া এবং সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা, অবৈধ অর্থ পাচার রোধ এবং পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা, নির্বাচনের পূর্বে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা, দুর্নীতিবাজ, আদালতের রায়ে দণ্ডিত সন্ত্রাসী, ঋণখেলাফি, বিদেশে অর্থ পাচারকারী ও কালো টাকার মালিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা। এছাড়া ধর্মীয় মূল্যবোধ ও স্বাধীনতার চেতনার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক, কল্যাণ-মুখী ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। শান্তিপূর্ণ ও অহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা এবং দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া।

মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের পদক্ষেপ গ্রহণ। নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষা এবং মাদক, জুয়া ও অনৈতিক সংস্কৃতি নির্মূল করাসহ ১৭ দফা দাবি এবং ২১ দফা ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শায়খুল হাদিস অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যক্ষ আল্লামা স উ ম আবদুস সামাদ। যৌথভাবে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আল্লামা এম এ মতিন, পীরে তরিকত আল্লামা ছৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী ও পীরে তরিকত আল্লামা ছৈয়দ সাইফুদ্দীন আল হাসানী।

 

এনএএন টিভি