নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির দেখা রোজায়

রমজানের আগে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির দেখা মিলছে। দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে কমছে নিত্যপণ্যের দাম।

সপ্তাহ ব্যবধানে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম অন্তত ৪ টাকা, প্রতি কেজি ছোলার দাম ২ টাকা এবং চিনির দাম ১ টাকা কমেছে।

এ ছাড়া খেজুরের ৫ কেজির প্যাকেটের দাম কমেছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। সেই সঙ্গে লবঙ্গ-এলাচিসহ মসলার দামও কমতির দিকে।

বুধবার (২২ মার্চ) দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজারে  দেখা যায়, বাজারের দোকানগুলায় ঢুকছে শত শত খেজুরের প্যাকেট।

কাভার্ড ভ্যান থেকে খেজুর নেয়া হচ্ছে গুদামে। খেজুরের মতো বেড়েছে লবঙ্গ-এলাচি-ধনিয়াসহ অন্যান্য মসলার সরবরাহ।

কিন্তু বাজারে পণ্য অনুযায়ী ক্রেতা নেই। ফলে রমজানের অন্যতম প্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম কমাতে বাধ্য হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সপ্তাহ ব্যবধানে প্রতি কেজি মসলার দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা, আর খেজুরের প্যাকেটের দাম অন্তত ৫০ টাকা কমেছে।

৫ কেজির খেজুরের প্যাকেটের দাম আগে ছিল ৩ হাজার ৭০০ টাকা, যা বর্তমানে নেমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪০০ টাকায়।

আর প্রতি কেজি লবঙ্গ ও এলাচির দাম আগে ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৩৮০ টাকা এবং ১ হাজার ৪৮০ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং ১ হাজার ৩২০ টাকায়।

এ ছাড়া ধনিয়ার কেজি ছিল ১২৫ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

বিশ্ববাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের বর্তমান বুকিং রেট ১ হাজার ১৫০ মার্কিন ডলার, যা গত সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ১৭০ ডলার।

আর এক সপ্তাহ আগে পাম তেলের বুকিং রেট ছিল ১৩০ ডলার, যা বর্তমানে ১২০ ডলার।

এতে সপ্তাহ ব্যবধানে প্রতি মণ সয়াবিন তেলের দাম কমে ঠেকেছে ৬ হাজার ৩২০ টাকায়, যা আগে ছিল ৬ হাজার ৪৫০ টাকা।

আর পাম তেলের প্রতি মণ হচ্ছে ৪ হাজার ৭০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪ হাজার ৮০০ টাকা।

এদিকে ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে ছোলার আমদানি লাগামহীন হওয়ায় প্রতিদিনই কমছে ছোলার দাম।

সাধারণ মানের ছোলার কেজি ৬৫ টাকায় নেমে এসেছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬৭ টাকা।

এদিকে ভালো মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭২ টাকা।

তবে চিনির সরবরাহ বাড়লেও সরকার আগে থেকে দর নির্ধারণ করে দেয়ায় কেজিপ্রতি এক টাকা কমেছে।

চট্টগ্রামের বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

‘রমজান উপলক্ষে চিনির যে চাহিদা ছিল তা কমে এসেছে। আগে প্রতি কেজি চিনি ১০৯ টাকা দরে বিক্রি করেছি।

এখন আমরা ১০৮ টাকা দরে বিক্রি করছি। আশা করি, সামনে দাম আরও কমবে।’

উল্লেখ্য, রমজান উপলক্ষ্যে গত দেড় মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৫০ হাজার টন খেজুর,

২ লাখ ৭২ হাজার টন চিনি, ৪৬ হাজার টন ছোলা এবং ২ লাখ ৩৩ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে।

Share this news as a Photo Card