বান্দরবান পর্যটন খাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় বান্দরবান এ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হোটেল-রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসগুলো।

কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিন উপজেলার ৫ শতাধিক ট্যুরিস্ট গাইড, বোটচালক ও পরিবহন শ্রমিকরা।

জীবিকার তাগিদে অনেকে পেশা বদলে চলে গেছেন অন্যত্র।

এ অবস্থা চলতে থাকলে জেলার পর্যটন খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। দেশের অন্যতম পর্যটন জেলা বান্দরবান।

জেলার রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় রয়েছে দেশের সুউচ্চ পাহাড় কেউক্রাডং,

তাজিংডং, রেমাক্রী, নাফাকুম, দেবতাকুম, বগালেক, রিঝুক ঝর্ণাসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান।

প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য উপভোগে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু ছুটে আসেন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে।

আর পর্যটকদের ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক করতে তিন উপজেলায় ট্যুর গাইড, নৌশ্রমিক,

পরিবহন শ্রমিকসহ হোটেল-মোটেলে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন স্থানীয় পাঁচ শতাধিক মানুষ।

তবে দীর্ঘ ৬ মাস ধরে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে যেতে পারছেন না পর্যটকরা।

এতে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন স্থানীয় ট্যুর গাইড ও শ্রমিকরা।

তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্যটক আসা বন্ধ রয়েছে। এতে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। আয়ের অভাবে সংসার চালাতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে দীর্ঘ এই নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকলে জেলার পর্যটনশিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।

বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন,

এভাবে চলতে থাকলে এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা অচল হয়ে পড়বে।

তাই এখানকার মানুষের আয়-রোজগারের কথা বিবেচনা করে সরকারকে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানের কারণে গত বছরের ১৮ অক্টোবর থেকে রুমা,

রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রশাসন।

আরও পড়ুন :

এনএএন টিভি