বিদ্যুতের সংকটে কমে গেছে পোশাকশিল্পের উৎপাদন

লাগাতার বিদ্যুৎ সংকটে অন্তত ২০ শতাংশ কমে গেছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন।

এর মধ্যে কারখানা চালু রাখতে লাখ লাখ টাকার ডিজেল কিনতে হচ্ছে মালিকদের।

পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে জেনারেটরসহ দামি যন্ত্রপাতি।

এ অবস্থায় এলাকাভিত্তিক রেশনিং পদ্ধতিতে লোডশেডিং করার পরামর্শ বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতাদের।

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ শিল্পাঞ্চলের একটি তৈরি পোশাক কারখানার সরেজমিন চিত্র বলছে, হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বন্ধ উৎপাদন।

কার্যক্রম সচল রাখতে দৌড়ে জেনারেটর চালু করেন একজন কর্মচারী; এতে পুনরায় শুরু হয় উৎপাদন।

কয়েক দিন ধরে এভাবেই দিনভর চলছে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া। আর তাতে চরম বেকায়দায় গার্মেন্টস কারখানাগুলো।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে প্রতিদিন উৎপাদন চালু রাখতে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার বাড়তি ডিজেল কিনতে হচ্ছে মালিকদের। তার ওপর উৎপাদন কমে গেছে অন্তত ২০ শতাংশ।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কারখানাগুলোর প্রতিটি ইউনিটে লাখ টাকার ওপর খরচ হচ্ছে।

যেখানে আগে আমরা ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার ডিজেল দিয়ে কারখানা চালাতে পারতাম।

এখন কারও পক্ষেই প্রতিদিন লাখ টাকার ওপর ডিজেল না কিনে কারখানা চালানো সম্ভব না।

এদিকে, অপরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে গার্মেন্টস কারখানার দামি সব যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে।

তাই রেশনিং পদ্ধতিতে লোডশেডিংয়ের পরামর্শ দিয়ে বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন,

‘জেনারেটরের সার্কিট তো নষ্ট হচ্ছেই; এর পাশাপাশি মেশিনারিজের সার্কিটও নষ্ট হচ্ছে।

যেহেতু জ্বালানি সংকট বিশ্বব্যাপী, সেহেতু আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশেও হবে।

কিন্তু সে ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই পরিকল্পনা অনুযায়ী লোডশেডিং করতে হবে।

এ অবস্থায় উৎপাদন জটিলতার পাশাপাশি যন্ত্রপাতির বিপর্যয় ঠেকাতে রেশনিং পদ্ধতিতে পূর্বঘোষণা দিয়ে লোডশেডিং করার তাগিদ দিলেন বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব।

তিনি বলেন, শিল্প এলাকা ও আবাসিক এলাকাভিত্তিক একটি পরিকল্পনা হওয়া উচিত, যাতে দিনের এ সময়ে এ এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না।

যদি সরকার একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা করে, তাহলে ভোক্তারাও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকবে।

বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রামের ৩০০টিসহ রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও সাভারে ৪ হাজারের বেশি গার্মেন্টস কারখানায় প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে।

এর বিপরীতে বর্তমান সংকটকালে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫শ থেকে ৭শ মেগাওয়াট।

বাংলাদেশের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাকশিল্পের । কিন্তু লাগাতার বিদ্যুৎ সংকটের মুখে এ শিল্প এখন ধসে পড়ার উপক্রম।

ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদনব্যবস্থা চালু রাখতে হচ্ছে; তা নাহলে থেকে যাচ্ছে শিপমেন্ট ফেইল করার শঙ্কা।

এনএএন টিভি