দেশে রেমিট্যান্স আর রফতানি আয় একবছর আগের তুলনায় বেশি এসেছে। তারপরও কাটছে না ডলার সংকট।
বলা হচ্ছে, হুন্ডির কারণেই প্রত্যাশা মতো রেমিট্যান্স যোগ হচ্ছে না রিজার্ভের হিসাবে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, ডলারের প্রবাহ বাড়াতে সমন্বিত রেট নির্ধারণ করতে হবে।
প্রণোদনা নাকি ডলারের অস্থির রেটের কারণে ধনিকশ্রেণির প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে আবার তা আমদানি-রফতানির আড়ালে নিয়ে যাচ্ছে প্রবাসে? এমন নানা প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, দেশের বাজারে ডলারের প্রবাহ বাড়াতে হলে ভিন্ন ভিন্ন রেট থেকে সরে আসতে হবে।
সম্প্রতি ডলার সংকট নিয়ে সময় সংবাদের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে এসব তথ্য।
উত্থান-পতনের মধ্যেই গত মে পর্যন্ত ১১ মাসে এক বছর আগের তুলনায় পণ্য রফতানির আয় বেড়েছে প্রায় সোয়া ৭ শতাংশ।
মাঝে মাঝে শঙ্কা জাগালেও যেভাবে রেমিট্যান্স এসেছে, জুন শেষে তা ছাড়িয়ে যেতে পারে আগের এক বছরের হিসাব।
একই সঙ্গে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে আমদানি ব্যয় কমেছে প্রায় সাড়ে ১৪ শতাংশ।
তবুও স্বস্তির দেখা মিলছে না বছর দেড়ক ধরে সংকটে থাকা ডলার বাজারে। কেন মিলছে না প্রত্যাশা পূরণের হিসাব?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, যেহেতু হুন্ডিতে অনেক বেশি রেট, তাই যারা রেমিট্যান্স পাঠাবেন তারা হুন্ডিতেই পাঠাচ্ছেন।
এ কারণে ইনফরমাল চ্যানেল দিয়ে ডলার বেশি যাচ্ছে। কারণ আমদানি যারা করেন, তারা তো যেটার রেট বেশি সেটাই গ্রহণ করছেন।
তারা প্রচুর আমদানি করছেন; কিন্তু রেকর্ডে কম দেখাচ্ছেন; হুন্ডি দিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
শুধু কি হুন্ডির কাছেই হেরে যাচ্ছে বৈধ চ্যানেল, নাকি অস্থিরতার বাজারে বৈধ চ্যানেলকেও ফায়দা হাসিলের মাধ্যম বানিয়েছে ধনিকশ্রেণির অসাধু প্রবাসীরা?
অর্থনীবিদ এম এম আকাশ বলেন, নিম্নবিত্তরা বিদেশ থেকে ডলার পাঠাচ্ছেন তাদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য।
যে ডলারটা এখানে আসছে, সেটা এখানেই খরচ হচ্ছে টাকায়। তাতে সমস্যা নেই।
কিন্তু উচ্চবিত্তরা ডলার পাঠাচ্ছেন লোভে, আড়াই পারসেন্ট ক্যাশ পাওয়ার আশায়। এখানে ডলারের দামটা পাবেন টাকায়।
ডলার আর্ন করছে এদেশের রিসোর্স দিয়ে; কিন্তু সেই ডলারটা এখানে বিনিয়োগ করছেন না।
হুন্ডির মাধ্যমে আবার পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিদেশে। আমেরিকা থেকে আসা রেমিট্যান্স সৌদি আরবের চেয়ে বেশি হয়ে গেল, এটাতো অস্বাভাবিক!
এখান থেকে মুক্তির উপায় কী?
ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার সামির সাত্তার বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা করছে ডলারের যে চ্যালেঞ্জ আছে সেটা মোকাবিলা করতে।
রেমিট্যান্স আসার জন্য এরই মধ্যে রাস্তাও করা আছে।
আমাদের এখন আমদানি বা রফতানির জন্য এক একটা রেট থাকলে, হুন্ডিওয়ালাদের রেটটা আকর্ষণীয় হয়ে যায়।
সেখানে আমার মনে হয়, ডলার রেটটাকে সমন্বিত করা দরকার।’
তার মতে, আমদানি, রফতানি ও রেমিট্যান্স – সব খাতে ডলারের এক রেট করলে হুন্ডির তৎপরতা কমবে এবং
প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়বে। কিন্তু তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, পাচারের শঙ্কা দূর হবে কীভাবে?
ভবিষ্যতে এমন বড় চাপে পড়তে না চাইলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতিকে আমলে নিয়ে ডলারের দাম সমন্বয় করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের।

Comments are closed.