চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর অর্থাৎ সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএসইর সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৭৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএসইর শরীয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১১৯৬ ও ২১২৮ পয়েন্টে রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে লেনদেন হয়েছে ১৯৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।
এদিন এ সময়ে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৪৮টির, কমেছে ৪৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৬টি কোম্পানির শেয়ার। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো- এনার্জিপ্যাক, সোনালি পেপার, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, নাভানা ফার্মা, মোফাজ্জল হোসেন স্পিনিং, কাশেম ইন্ডাস্ট্রি, ওয়াইমেক্স, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, শাইনপুকুর সিরামিক।
এদিকে বিভিন্ন ক্যাটেগরির মধ্যে ‘এ’ ক্যাটেগরির ২১৮টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৬৬টি কোম্পানি ও ফান্ডের দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ১২৪টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ২৮টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর।
একইভাবে ‘বি’ ক্যাটেগরির ৮৩টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি ফান্ড ও কোম্পানির দরদাম বেড়েছে। এর বিপরীতে ৩৩টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ২টি ফান্ড ও কোম্পানির দর।
‘জেড’ ক্যাটেগরির ৯৬টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি ফান্ড ও কোম্পানির দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ৫৩টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ১৫টি ফান্ড ও কোম্পানির দর।
একইসঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও বেশির ভাগ ফান্ডের ইউনিটের দরও কমেছে। লেনদেন হওয়া ৩৬টি ফান্ডের মধ্যে মাত্র ৪টি ফান্ডের ইউনিট দর বেড়েছে, বিপরীতে ১৩টি ফান্ডের ইউনিট দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ১৯টি ফান্ডের ইউনিট দর।
ডিএসইতে গতকাল মোট ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬১৪টি শেয়ার ও ইউনিট তিন লাখ ১৯ হাজার ৬০৬ বার হাতবদল হয়েছে। এর জেরে দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৭৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১১ আগস্টের পর ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো। ২০২৪ সালের ১১ আগস্টের পর ডিএসইতে ২ হাজার ১০ কোটি ৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়। এরপর আর দুই হাজার কোটি টাকার লেনদেনের দেখা মেলেনি।
এ লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪২ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার। ২৭ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑসোনালী পেপার, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, বিচ হ্যাচারি, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, ওরিয়ন ইনফিউশন, এবং ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, গতকাল পুঁজিবাজারের এই তেজিভাব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। আগামী দিনগুলোয় বাজারের এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূচক বাড়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে লেনদেনেরও পরিমাণ বেড়েছে। এটি বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, আগামী দিনগুলোয়ও এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকবে।

One Reply to “সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় চলছে লেনদেন”
Comments are closed.