ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বুধবার (২৭ আগস্ট) রাতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলায় এক শিশুসহ অন্তত চার জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
দনিপ্রোর অপারেশনাল-স্ট্র্যাটেজিক গ্রুপ অব ট্রুপসের কর্মকর্তা ভিক্টর ত্রেহুবভ বিবিসিকে বলেন, ‘দনিপ্রোপেত্রভস্কে এটাই প্রথম এত বড় আকারের হামলা।’ তবে তিনি দাবি করেন, রুশ অগ্রযাত্রা ইতোমধ্যে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনীয় ‘ডিপস্টেট ম্যাপিং প্রজেক্ট’ মঙ্গলবার দাবি করে, রুশ সেনারা সীমান্তঘেঁষা দুটি গ্রাম—জাপোরিজকে এবং নভোহ্রিহোরিভকা—দখল করেছে। তবে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এই দাবি নাকচ করেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, জাপোরিজকে এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে আছে এবং নভোহ্রিহোরিভকার আশপাশে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
যদিও রাশিয়া দনিপ্রোপেত্রভস্ককে দোনেৎস্কসহ পূর্ব ইউক্রেনের চার অঞ্চলের মতো নিজেদের দাবি করেনি, তবুও রাজধানী দনিপ্রোসহ এ অঞ্চলের বড় শহরগুলোতে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। বিবিসি জানায়, যুদ্ধ শুরুর আগে দনিপ্রোপেত্রভস্কে ৩০ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করত। ডনবাসের (দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক) পর এটি ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভারী শিল্পাঞ্চল ছিল।
রুশ সেনাদের অগ্রযাত্রা ধীরগতির হলেও এবং প্রচুর হতাহতের মুখে পড়লেও তারা সম্প্রতি দোনেৎস্কে কিছু অগ্রগতি অর্জন করেছে। এ মাসের শুরুতে তারা দোব্রোপিলিয়ার কাছে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ভেদ করে প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে। তবে সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, সে অগ্রযাত্রা থেমে গেছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, পুতিন ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, ইউক্রেন যদি দোনেৎস্কের অবশিষ্ট অঞ্চল রাশিয়ার হাতে তুলে দেয়, তবে তিনি যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত। তবে ইউক্রেনীয়দের অনেকেই মনে করেন, রুশ প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।
কিয়েভের প্রেসিডেন্ট অফিসের উপপ্রধান কর্নেল পাভলো পালিসা গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকদের বলেন, ক্রেমলিনের লক্ষ্য দনিপ্রো নদীর পূর্বাঞ্চলীয় পুরো ইউক্রেন দখল করা। এই নদী ইউক্রেনকে কার্যত দুইভাগে ভাগ করেছে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস সতর্ক করে বলেন, শান্তিচুক্তির নামে ইউক্রেনের ভূমি রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়া আসলে ‘একটি ফাঁদ।’ তার ভাষায়, ‘আমরা ভুলে যাচ্ছি, রাশিয়া কোনো ছাড় দেয়নি, বরং তারাই এখানে আগ্রাসন চালাচ্ছে।’

One Reply to “কিয়েভে রাতভর রুশ বাহিনীর হামলা,”
Comments are closed.