জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আকস্মিকভাবে।
এর পরপরই এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।
প্রায় একই পরিমাণ দাম বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রও।
পাশাপাশি বিভিন্ন বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান পূর্বাভাস দিয়েছে যে, জ্বালানি তেলের দাম জুন নাগাদ ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের পৃথক দুই প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের ধরণ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম প্রতি ব্যারেলে বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
সে অনুসারে বর্তমান বাজারমূল্য ৮০ দশমিক ০১ ডলার। অপরদিকে ব্রেন্ট জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
সে অনুসারে বর্তমান বাজারমূল্য ৮৪ দশমিক ৪২ ডলার প্রতি ব্যারেল।
সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, আলজেরিয়া এবং ওমানের মতো ওপেক প্লাস জোটভুক্ত দেশগুলোই মূলত এই উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে আগামী মাস থেকে প্রতিদিন আগের চেয়ে ১১ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল কম তেল উৎপাদন করা হবে।
এর আগে, গত বছরের অক্টোবরেও প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল জোটটি।
ওপেক প্লাসের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যার মাত্র কয়েক দিন আগেই বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ থাকার পরও ওপেক প্লাস আবারও তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেক প্লাসের নতুন এই সিদ্ধান্তে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম আবারও
ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে।
এ বিষয়ে নরওয়েভিত্তিক জ্বালানি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান রে-স্টাড এনার্জি এক পূর্বাভাসে বলেছে,
ওপেক প্লাসের এই সিদ্ধান্ত বাজারে নতুন করে চাপের সৃষ্টি করবে।
এর ফলে বছরের বাকি সময় তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি ব্রেন্টের দাম হতে পারে ১১০ ডলার প্রতি ব্যারেল।
ইউনিয়ন ব্যাংক অব সুইজারল্যান্ড বা ইউবিএস জানিয়েছে, ব্রেন্ট জ্বালানির দাম জুন নাগাদ ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুন:
