মৌসুমেও দাম বাড়ছে আলুর , ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

নতুন আলু বাজারে আসছে প্রায় এক মাস ধরে। প্রতিবছর শুরুতে নতুন আলুর দাম কিছুটা বেশি থাকলেও মাঝামাঝি সময়ে দাম কমে আসে। 

কিন্তু এ বছর সে লক্ষণ নেই। বরং ভরা মৌসুমেও আলুর দাম কমছে না, বাড়ছে। এতে ক্রেতারাও বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহে ঘাটতির কারণে দাম কমছে না। পাশাপাশি ভারত থেকে আলু আমদানি বন্ধ হওয়ার পর থেকে বাজার আরও চড়ে গেছে।

ক্রেতারা বলছেন, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসেও পুরোনো আলু বেশ চড়া দামেই কিনতে হচ্ছে।

অথচ অন্য বছরগুলোতে এ সময়ে পুরোনো আলুর চাহিদা একেবারে পড়ে যেত এবং দামও কমত। অথচ এ সময়ে কিনতে হচ্ছে বেশি দামে।

 

আর ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন,

এখনো নতুন আলু পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ হয়নি। সে কারণে নতুন ও পুরোনো দুই ধরনের আলুর দামই বাড়তি।রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন ও পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি।

গত সপ্তাহ থেকে উভয় পদের আলুর দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এ সময়ে এবারই সর্বোচ্চ দামে আলু বিক্রি হচ্ছে অনেকেই জানান।

এ ছাড়া নভেম্বরেও আলুর কেজি ৫০ টাকার আশপাশে ছিল। এবার অন্যান্য সবজির দামও বেশি। এটিও আলুর বাড়তি দামের আরেকটি কারণ।

 

সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে রবিবার ঢাকায় মানভেদে প্রতি কেজি নতুন ও পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

সরকারি সংস্থাটির হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত এক মাসে আলুর দাম বেড়েছে ৩৭ শতাংশের মতো।

গত বছরের এই সময়ে ঢাকার বাজারে নতুন ও পুরোনো আলুর কেজি ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা।

এর মানে, দেশে এক বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ১৮৯ শতাংশ।

আলুর দাম কমার দিকে ছিল। কিন্তু এই মাসের শুরুতে একটা বৃষ্টি হয়। এরপরই বাজারে আলু কম আসতে শুরু করে। তাতে দামও বাড়তে থাকে।

 

বাজারে গত সেপ্টেম্বর থেকে হঠাৎ আলুর দাম বাড়তে শুরু করে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজিতে আলুর দাম ৩৫-৩৬ টাকা (হিমাগার পর্যায়ে ২৬-২৭) বেঁধে দেয়।

সেই সঙ্গে বাজারে অভিযান শুরু করে। জেলায় জেলায় হিমাগার পর্যায়েও তদারক করা হয়।

তাতেও সুফল না পেয়ে গত ৩০ অক্টোবর আলু আমদানির অনুমতি দেয় সরকার।

আমদানির সিদ্ধান্তের পরও বাজারে বড় কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। প্রতি কেজির দাম ৫০ টাকার নিচে নামেনি।

আলু আমদানির অনুমতিপত্রের (আইপি) মেয়াদ ১৫ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,

সরকার এবার ৩ লাখ ৬ হাজার টন আলু আমদানির অনুমতিপত্র দিলেও দেশে আলু আসে ৬০ হাজার টন।

অর্থাৎ আইপির ৫ ভাগের ১ ভাগের মতো আমদানি হয়েছে।

এদিকে বাজারে নতুন আলু আসতে শুরু করায় স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষা দিতে নতুন করে আমদানির অনুমতি দেওয়ার চিন্তা নেই সরকারের।

অন্যদিকে বাজারে পর্যাপ্ত আলু না আসায় দামও কমছে না।

আলু নিয়ে একেক প্রতিষ্ঠানের একেক তথ্য: কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত মৌসুমে আলু উৎপাদিত হয়েছিল ১ কোটি ৪ লাখ টন।

আবার কৃষি মন্ত্রণালয়েরই আওতাভুক্ত সংস্থা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী আলু উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১১ লাখ টন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব বলছে, আলু উৎপাদিত হয়েছিল ১ কোটি ৯ লাখ টন।

মন্ত্রণালয়সহ সরকারি তিন সংস্থার তথ্য বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যখন হিমাগার সমিতি জানায়,

দেশে গত মৌসুমে সাকল্যে আলু উৎপাদিত হয়েছিল ৮০ থেকে ৮৫ লাখ টন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবমতে, দেশে বছরে আলুর মোট চাহিদা ৮০ থেকে ৮৫ লাখ টন।

আবার কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে চাহিদা হচ্ছে ৮৯ লাখ টন।

অন্যদিকে হিমাগার মালিক সমিতি মনে করে, দেশে আলুর চাহিদা ৯০ লাখ টন।

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card