উচ্চতা কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আমির খান

মুক্তির অপেক্ষায় আমির খানের নতুন সিনেমা ‘সিতারে জমিন পার’। ট্রেলারের এক দৃশ্যে তাঁকে ‘টিঙ্গু’ বলে ডাকা হয়, মানে কম উচ্চতা নিয়ে মজা করা হয়েছে। তবে এই হালকা রসিকতার আড়ালেই যেন ফিরে আসে আমিরের পুরোনো এক সংকোচের গল্প।

আমিরের শারীরিক উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। যদিও নব্বইয়ের দশকের ‘চকোলেট বয়’-এর অনুরাগীর কোনও অভাব ছিল না। উচ্চতার জন্য তেমন কিছু প্রভাবও পড়েনি তাঁর অভিনয়ের সফরে। কিন্তু আমির নিজে নাকি হীনম্মন্যতায় ভুগতেন। তথাকথিত লম্বা-চওড়া নায়ক না হওয়ার আক্ষেপ ছিল তাঁর। অভিনেতা স্বীকার করে নেন হীনম্মন্যতার কথা।

সাম্প্রতিক এক প্রচার অনুষ্ঠানে আমির খান জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নিজের উচ্চতা নিয়ে বেশ অনিশ্চয়তায় ভুগতেন তিনি।

ইউটিউব চ্যানেল ‘জাস্ট টু ফিল্মি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমির খান জানান, কীভাবে বলিউডে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নিজের ‘ছোট উচ্চতা’ নিয়ে তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। আমির বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি খুবই ভয় পেতাম। অমিতজি (অমিতাভ বচ্চন) তখন এক নম্বর নায়ক, আর তাঁর উচ্চতা ছিল ছয় ফুটেরও বেশি। বিনোদজি (বিনোদ খান্না), শত্রুঘ্ন সিনহা—তাঁরাও ছিলেন বেশ লম্বা। তাই আমি চিন্তিত ছিলাম, এই উচ্চতা নিয়ে আদৌ টিকে থাকতে পারব কি না। তবে শেষ পর্যন্ত সব ঠিকই হয়েছে।’

তবে এই প্রথম নয়। ‘তালাশ’ ছবির সময়েও আমির উচ্চতা নিয়ে হীনম্মন্যতার কথা বলেছিলেন। জানিয়েছিলেন, তাঁকে নাকি অনেকেই খোঁচা দিয়ে ‘খাটো’ বলে ডাকতেন। প্রথম দিকে খারাপ লাগলেও, পরে এই ধরনের মন্তব্য আর প্রভাব ফেলেনি আমিরের উপর। ক্রমশ বুঝেছেন বাইরের সৌন্দর্যই সব কিছু নয়। তিনি বলেছেন, “কতটা সৎ ভাবে একজন কাজ করছে আর সেই কাজ মানুষকে কী ভাবে আলোকিত করছে, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাকি কোনও কিছুর কোনও গুরুত্ব নেই।”

নানাভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন আমির—অভিনয়ে যেমন সাবলীল, তেমনি মানসিকভাবেও দৃঢ়। এদিন আমির আরও জানান, কীভাবে তিনি সমালোচনা বা কটাক্ষকে গুরুত্ব না দিয়ে সামলে নেন। এ প্রসঙ্গে তিনি কৃতিত্ব দেন প্রখ্যাত গীতিকার জাভেদ আখতারকে।

আমির বলেন, ‘জাভেদ সাহেব একবার বলেছিলেন, যেটা আমি গভীরভাবে মানি—ভালো রসবোধ শুধু মজা করার জন্য নয়, কঠিন সময়ে এটি অনেক কাজে আসে। এটি যেন একধরনের “শক অ্যাবজর্বার” (ধাক্কা সামাল দেওয়ার ক্ষমতা)। আমি মনে করি, আমার মধ্যে বরাবরই এই ক্ষমতা ছিল। আর এই বিষয়টি ছবির মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণভাবে আছে।

২০০৭ সালের ‘তারে জমিন পার’ আমির খানের প্রথম পরিচালনা, যা ভারতীয় সিনেমায় একটি মাইলফলক। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, সৃজনশীলতা ও শিক্ষাব্যবস্থার জটিলতা নিয়ে আবেগঘন গল্প বলেছিল সেই ছবি। শিরোনামে মিল থাকলেও ‘সিতারে জমিন পার’ মূলত ভিন্ন ঘরানার ছবি। তবে এটিকে স্পিরিচুয়াল সিকুয়েল বলা যায়। এটি একটি স্পোর্টস, কমেডি, ড্রামা, যেখানে মূল চরিত্রে থাকবে একঝাঁক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু, যাঁরা জীবনের প্রতিকূলতা অতিক্রম করে একটি দলের হয়ে খেলার চেষ্টা করে। আর আমির খান থাকবেন একজন অনুপ্রেরণাদায়ী কোচের ভূমিকায়।

আমিরের ভাষায়, ‘এটি এমন এক গল্প, যা হাসাবে, কাঁদাবে, ভাবাবে এবং বড়দেরও শিশুদের চোখ দিয়ে জীবন দেখতে শেখাবে।’ ছবিটি পরিচালনা করছেন আর এস প্রসন্ন। মুক্তি পাবে ২০ জুন