‘জেহ-কে বাঁচানোর চেষ্টা করছিল সইফ’, পুলিশি বয়ানে সে রাতের হাড়হিম কাহিনি জানালেন কারিনা

মধ্যরাতে সাইফ আলি খানের বাড়িতে হামলার ঘটনায় চমকে গেছে পুরো ভারতবাসী। এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই নবাব বাড়িতে ঘটেছে ভয়াবহ কাণ্ড। যেখানে বিপন্ন হতে চলেছিল কারিনা-সাইফপুত্রের জীবন। গত বুধবার মধ্যরাতে নিজ বাড়িতে ছুরিকাঘাতের শিকার বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খান। এ মুহূর্তে রয়েছেন মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে। সেই রাতের ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন সাইফপত্নী কারিনা কাপুর খান।

পুলিশের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়ার পর সংবাদ মাধ্যমে কথা বলেছেন কারিনা কাপুর। তার চোখেমুখে ছিল আতঙ্কের ছাপ। নিজেকে কোনও মতে সামলেছেন তিনি।

কারিনা জানান, ‘তার দুই সন্তান ও সাহায্যকারীদের বাঁচাতে নিজের প্রাণের তোয়াক্কা না করে ঝাঁপিয়ে পড়েন সাইফ। আক্রমণকারী ছিল মারাত্মক হিংস্র। নৃশংস ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সাইফের ওপর। এলোপাথাড়ি মেরেছে তাকে।’

তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর (জেহ) তখন ভয়ে কাঁপছিল, কান্না করছিল ভয়ে। এমন সময় কোনো বাবা স্থির থাকতে পারেনা। সাইফও তেমনি ছোট ছেলেকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরিস্থিতি তার অনুকুলে না থাকায় হিংস্র হয়ে ওঠে আক্রমণকারী।’

ছুরির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে অভিনেতার শরীর। চিকিৎসকদের মতোই কারিনাও জানিয়েছেন, ‘তার স্বামীর শরীরে মোট ৬টি জখম হয়। সেই রাতে সাইফ যেন রক্তস্নান করেছিলেন! অভিনেত্রীর কথায়, ‘আক্রমণকারী কিছুই চুরি করতে পারেনি।’

ঘটনার পরেই কারিনা এবং জেহকে নিয়ে চলে যান তার বড় বোন কারিশ্মা কাপুর। তবে তার বোন কখন, কীভাবে খবর পেয়েছিলেন, সে কথা অবশ্য জানাননি কারিনা।

তাদের বড় ছেলে তৈমুর ছিল বাবার সঙ্গে। সাইফ যখন হাসপাতালের উদ্দেশ্যে অটোয় উঠে বসেন। তখন তৈমুরের হাত ছিল সাইফের হাতের মুঠোয়।

জানা গেছে, আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন সাইফ। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) অল্প হেঁটেছেন চিকিৎসকদের পরামর্শে। যদিও হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাননি এখনও।

চিকিৎসকরা বলছেন, পরিস্থিতি বুঝে তারা সাইফকে হাসপাতাল থেকে ছাড়বেন। অন্য দিকে, কারিনা সংবাদমাধ্যমসহ অনুরাগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ধন্যবাদ জানিয়েছেন শাহরুখ খান, আলিয়া ভাটসহ বলিউডের ঘনিষ্ঠজনদের।

এনএএন টিভি