লালন সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেন

গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন স্বনামধন্য লালন সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন। ছড়িয়েছিল মৃত্যুর গুজবও। অবশেষে তিনি সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন।

সোমবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তিনি বাসায় ফিরেন।

ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

চিকিৎসক জানান, গত ৫ জুলাই রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন এই গুণী শিল্পী। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির অসুখে ভুগছেন তিনি। সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস নিতে হয় তার। সেইসাথে রক্তে সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, ডায়াবেটিসসহ একাধিক শারীরিক জটিলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন।

কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা রানা মোকাররম হোসেন এবং ক্রিটিকাল কেয়ার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন লালন সম্রাজ্ঞী।

ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী জাগো নিউজকে জানান, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন গতকাল রাতে শিল্পী ফরিদা পারভীন। কিন্তু কিডনি বিকল রোগীদের যেকোনো সময় পুনরায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে।

ফরিদা পারভীনের স্বামী যন্ত্রসংগীতশিল্পী গাজী আবদুল হাকিমের সঙ্গে আজ (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে দশটার দিকে জাগো নিউজকে বলেন, ‘গতকাল রাতে তিনি (ফরিদা পারভীন) বাসায় ফিরেছেন। এখন সুস্থ আছেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’

ফরিদা পারভীন ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত পরিবেশন শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে দেশের গান গেয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ১৯৮৭ সালে সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদক পান। ২০০৮ সালে তিনি জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কারও পেয়েছেন। ১৯৯৩ সালে প্লেব্যাকের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

 

এনএএন টিভি