উত্তাল পাকিস্তান: সেনা মোতায়েন, সংঘর্ষে নিহত ১১

পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল ‘তেহরিক ই ইনসাফ’-এর বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। শুক্রবার ইসলামাবাদ অভিমুখে মার্চ ঠেকাতে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির সরকার। এরইমধ্যে, রাজধানীর সাথে সংযুক্ত বেশিরভাগ সড়কই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে ইসলামাবাদে পিটিআই বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য ফেডারেল রাজধানীতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডন।

জানা গেছে, ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে শুক্রবার ইসলামাবাদের ডি-চকে বিক্ষোভ করে পিটিআই বিক্ষোভকারীরা। দুপুরের দিকে দলের সমর্থকরা এলাকায় আসতে শুরু করে। পিটিআই কর্মীরা জড়ো হওয়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। সেখান থেকে পিটিআইয়ের ৩০ সমর্থকসহ ইমরানের দুই বোনকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদমাধ্যম ডন এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, কারারুদ্ধ ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে শুক্রবার রাজধানী ইসলামাবাদের ডি-চক এলাকায় সমাবেশের ডাক দিয়েছিল পিটিআই। কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা ও কড়াকড়ি সত্ত্বেও নিজ সমর্থকদের ‘শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ’ করতে জেল থেকে আহ্বান জানিয়েছেন ইমরান খান।

ইমরান খানকে ‘অবৈধভাবে’ কারারুদ্ধ রাখার প্রতিবাদে পিটিআই গত কয়েক সপ্তাহে দেশজুড়ে অনেকগুলো সমাবেশ করেছে। এসব সমাবেশ থেকে ‘সংরক্ষিত আসন’ বাস্তবায়ন নিয়ে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের গড়িমসির সমালোচনা করা হয়েছে। সংবিধান বাঁচানোর ডাক দেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে ইসলামাবাদ ও লাহোর সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল পিটিআই। কিন্তু এসব সমাবেশের আগে সেখানে একগুচ্ছ কঠিন নির্দেশনা জারি করেছিল সরকার। নির্দেশনা না মানায় দলটির কর্মী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষে মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।

ইসলামাবাদের সমাবেশ উপলক্ষে বিভিন্ন শহর থেকে কাফেলা নিয়ে মানুষ রওনা করেছেন বলে জানিয়েছে পিটিআই। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইসলামাবাদে সমাবেশ না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কারণ, সেখানে উচ্চপর্যায়ের অনেক বিদেশি ব্যক্তির সফর রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ব্যক্তিদের সফর থাকায় পিটিআইকে ইসলামাবাদে সমাবেশ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ মাওলানা ফজলুর রহমান। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের সঙ্গে সম্প্রতি ইমরান খানের দলের যোগাযোগ বেড়েছে।

এনএএন টিভি