অ্যাঙ্গাস কিং এর ঘোষণা :যতদিন গাজার শিশুরা অনাহারে থাকবে, ততদিন ইসরাইলকে সমর্থন নয়’

মার্কিন সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং ঘোষণা করেছেন, তিনি ইসরাইলকে যেকোনো ধরনের সামরিক বা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করবেন, যতক্ষণ না গাজায় মানবিক সংকটের সমাধান হয়।

সিনেটর কিং বলেন, ‘যতদিন গাজায় শিশুরা খাদ্য ও ওষুধের অভাবে কষ্ট ভোগ করবে, যতদিন তারা অনাহারে থাকবে, ততদিন আমি ইসরাইলকে কোনো ধরনের সহায়তা সমর্থন করব না। আমাদের কর্তব্য প্রথমে মানবিক সাহায্য নিশ্চিত করা।’

তার এই মন্তব্য ইসরাইল-সমর্থক মার্কিন রাজনীতিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই একে ‘ইসরাইলের নিরাপত্তাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।

 

ইতোমধ্যে গাজায় চলমান যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে সেখানে শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের অবস্থা ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৯০% শিশু পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার পায় না এবং অনেকেই তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।

গাজায় চলমান ভয়াবহ মানবিক সংকট, বিশেষ করে শিশুদের খাদ্য ও চিকিৎসা সঙ্কট নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং। এই অবস্থায় তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, যতদিন গাজার শিশুরা অনাহারে থাকবে, ততদিন তিনি ইসরায়েলকে কোনও সামরিক বা অর্থনৈতিক সহায়তার পক্ষে ভোট দেবেন না।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে, চলতি বছরের জুলাই মাসে মার্কিন সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং এক প্রকাশ্য ঘোষণায় বলেন—যতদিন গাজায় শিশুরা অনাহারে থাকবে এবং ওষুধ ও খাদ্য সংকটে থাকবে, ততদিন তিনি ইসরায়েলকে কোনও সহায়তা সমর্থন করবেন না। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব আগে মানবিক সাহায্য নিশ্চিত করা।

গাজায় ইতোমধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু প্রতিদিন পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে না। এর ফলে বহু শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে এবং দুর্বলতাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ইসরায়েল গত দুই বছর ধরে গাজার ওপর কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে, যা ২০২৫ সালের মার্চ থেকে আরও কঠোর হয়—যখন তারা গাজার সব সীমান্তপথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে খাদ্য, পানি ও ওষুধের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। টানা বোমাবর্ষণ, অবরোধ এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য ঠেকিয়ে দেওয়ার কারণে গাজায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খাদ্য সংক্রান্ত সবধরনের অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে পুরো অঞ্চলটিতে মারাত্মক মানবিক বিপর্যয় চলছে।

 

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card