ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সোচিতে তেলের ডিপোতে আগুন

রাশিয়ার দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের সোচি শহরে গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। হামলায় একটি তেলের ডিপোতে আগুন লেগে যায়। আজ রোববার শহরটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১৪ সালে সোচিতে শীতকালীন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বার্তা আদান–প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কোন্দ্রাতিয়েভ বলেন, গত রাতে কিয়েভের শাসকদের ড্রোন হামলায় সোচি আক্রান্ত হয়েছে। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি তেল ট্যাংকে আঘাত হানে। এতে সেখানে আগুন লেগে যায়।

শনিবার (২ আগস্ট) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্রাসনোদার গভর্নর ভেনিয়ামিন কনড্রাটিয়েভ টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কে আঘাত করেছে এবং ১২৭ জন দমকলকর্মী আগুন নেভাতে কাজ করছেন।

ভোরোনেজের গভর্নর জানিয়েছেন, এই ড্রোন হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাতারাতি ৯৩টি ইউক্রেনীয় ড্রোন আটক করেছে, যার মধ্যে ৬০টি কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের ওপরে ছিল।

রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, সোচির তেল শোধনাগারে হামলাটি ছিল ইউক্রেনের চালানো একাধিক ড্রোন হামলার একটি। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রিয়াজান, পেনজা ও ভোরোনেজের বিভিন্ন স্থাপনা। ভোরোনেজে এক ড্রোন হামলায় চারজন আহত হয়েছেন।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, এক রাতেই তারা ৯৩টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে ৬০টি কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে ধরা পড়ে। অপরদিকে, ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ৮৩টি ড্রোন বা ৭৬টি ড্রোন ও ৭টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে ৬১টি প্রতিহত করা হয়। বাকি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের আটটি স্থানে আঘাত হানে।

গত সপ্তাহকে ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অন্যতম প্রাণঘাতী সময় বলে আখ্যা দিয়েছে কিয়েভ। বৃহস্পতিবারের এক হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। ইউক্রেনের দাবি, ওই হামলায় রাশিয়া ৩০০টির বেশি ড্রোন ও ৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে—যা ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর কিয়েভে অন্যতম ভয়াবহ হামলা।

এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রাশিয়ার হামলার নিন্দা জানিয়ে নতুন নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর আগে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ৫০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ না করলে রাশিয়ার তেল ও অন্যান্য রপ্তানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হবে। পরবর্তীতে এই সময়সীমা বাড়িয়ে ৮ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করেন তিনি।

 

এনএএন টিভি