গাজায় ছয় সপ্তাহে ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৮০০

গাজায় ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে ইসরায়েল। গত ৬ সপ্তাহে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৮০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এদিকে বেশ কিছু সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় শনিবার (১২ জুলাই) ভোর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার গাজায় ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা কমপক্ষে ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ছয় সপ্তাহে অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরায়েলের বর্বর হামলায় প্রায় ৮০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন

গতকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, ‘২৭ মে থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত ৭৯৮ জনকে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬১৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে জিএইচএফের ত্রাণগুলোর আশপাশে। আর ১৮৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে ত্রাণ নিতে যাওয়ার পথে।’

ওএইচসিএইচআর জানিয়েছে, ত্রাণকেন্দ্রে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের হত্যার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে গাজার বিভিন্ন হাসপাতাল, কবরস্থান, ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, এনজিও, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে। হামলার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২৭ মে থেকে ত্রাণকেন্দ্রে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় নির্বিচার মানুষ হত্যা করছে ইসরায়েল। গতকাল উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সবশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ২১ মাসে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ৫৮ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ। ইসরায়েলের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

এমন পরিস্থিতিতে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী তিনি। গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ সংঘাত পুরোপুরি বন্ধের চেষ্টা চালাবে।

সংঘাত বন্ধের দিকে এগোনোর কথা বললেও বৃহস্পতিবারেই মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের কাছে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলায় ১০ শিশুসহ ১৬ জন নিহত হয়েছেন। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রক্তের ভেতরে কয়েকজন নারী ও শিশুর দেহ পড়ে আছে। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাধায় টানা গাড়িতে করে শিশুদের নিথর দেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

নিহত এক শিশুর মরদেহের পাশে বসে ছিলেন তার মা সামাহ আল-নোউরি। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘কসম, আমার মেয়ে কিছু করেনি। ও নিষ্পাপ ছিল। ও স্বপ্ন দেখত যুদ্ধ শেষ হবে, আবার স্কুলে যেতে পারবে। আমার মেয়ে তো কেবল এখানে চিকিৎসা নিচ্ছিল। কেন ওকে মেরে ফেলা হলো?’

 

এনএএন টিভি