কলোম্বিয়ায় দুটি পৃথক হামলায় কমপেক্ষ ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, এতে কয়েক দশক ধরে চলা দেশটির সবচেয়ে নিরাপত্তা সংকট আরও গুরুতর হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের শহর কালিতে একটি গাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ছয় জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ষাট জন।
এর আগে বৃহস্পতিবার পুলিশের একটি হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে প্রাণ হারান ১৪ জন। হামলার জন্য বর্তমানে বিলুপ্ত রেভ্যুলুশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়াকে (ফার্ক) দায়ী করা হয়েছে। যা আগামী বছর নির্বাচনের আগে কলম্বিয়ার ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কালির মেয়র আলেজান্দ্রো এডের দেশটির তৃতীয় জনাকীর্ণ শহরে সামরিক আইন জারি করেছেন। এছাড়া বড় বড় ট্রাকগুলোও শহরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফে বলা হয়েছে, কলম্বিয়া কখনো সন্ত্রাসবাদের কাছে নতি স্বীকার করবে না। কঠোর আইন প্রয়োগ করে এগুলো দমন করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালিতে মার্কো ফিডেল সুয়ারেজ মিলিটারি স্কুল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে বেসামরিক নাগরিক ও বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, বিমান ঘাঁটির কাছে কিছু একটা বিস্ফোরিত হওয়ার বিকট শব্দ হলো। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ একে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। হেলিকপ্টারে হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো বলেছেন, ওই হেলিকপ্টারটি কোকেন তৈরির মূল উপাদান কোকো পাতা নির্মূলে ব্যবহার করা হয়। হেলিকপ্টারটিতে ড্রোন হামলা করা হলে তা বিধ্বস্ত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ছবিতে দেখা যায়, চারিদিক কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে। সানচেজ বলেছেন, ইএমসি গেরিলা গ্রুপ ওই হামলা চালিয়েছে। কলম্বিয়াতে সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও ভিন্ন মতাবলম্বী বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ বৃদ্ধি পেয়েছে।

One Reply to “পৃথক হামলায় কলম্বিয়ায় নিহত ১৮”
Comments are closed.