আবারও বিক্ষোভে উত্তাল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

আবারও বিক্ষোভে উত্তাল নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। গাজায় ইসরাইলের গণহত্যার বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনের সমর্থনে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। তবে আগের মতোই পুলিশি বাধার মুখে পড়েছে বিক্ষোভ। অন্তত ৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সামরিক আগ্রাসন ও গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরাইল। এর প্রতিবাদে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন শুরু হয়। বড় আকারে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সে সময় তাদের এ বিক্ষোভ সারাবিশ্বের গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়। ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় শিক্ষার্থীদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের হাতে নানা হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। বিক্ষোভে অংশ নেয়া অনেক শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। অনেকের ছাত্রত্ব কেড়া নেয়া হয়েছে।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর দমনপীড়নও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে কাবু করতে পারেনি। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিতে বুধবার (৭ মে) আবারও ইউনিভার্সিটির বাটলার লাইব্রেরির সামনে জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে লাইব্রেরি প্রাঙ্গন।

কিন্তু গত বছরের মতোই বিক্ষোভকারীদের দমনের চেষ্টা করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আটক করা হয় অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারীকে। লাইব্রেরির বাইরে ও ভেতরে তৈরি হয় ঘণ্টাব্যাপী অচলাবস্থা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের ‘সহিংসভাবে দমন’ করেছে। পরিচয়পত্র না দেখানোর অজুহাতে পুলিশ তাদের হেনস্থা করেছে।

দুজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন উল্লেখ করে পুরো ঘটনাকে অসহনীয় আখ্যা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আটক হওয়াদের অনেকেই শিক্ষার্থী নয় বলে জানিয়েছেন তারা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে চলমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে ক্ষোভ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চলমান বিক্ষোভের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে ৪০ কোটি ডলারের সরকারি তহবিল বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। এরই মধ্যে হার্ভার্ডের জন্য বরাদ্দ ২২০ কোটি ডলার কাটছাঁট করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card