সূর্যগ্রহণে চাঁদ সূর্যকে ঢেকে ফেলে। এ সময় সূর্যের চারদিকে একটি বলয় বা চুড়ির মতো দেখা যায়। মহাজাগতিক এ ঘটনা ঘিরে যুগ যুগ ধরে নানান কথা রটেছে। তবে এখনকার বিজ্ঞান অনেক কুসংস্কার ভেঙে দিয়েছে। বিবর্তনের শুরু থেকে পৃথিবীজুড়ে এই সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে রয়েছে হাজারো জনশ্রুতি, কল্পকাহিনি ও কুসংস্কার।
অনেকেই মনে করেন, এই মহাকাশীয় ঘটনাগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম। সেই প্রভাব আবার নেতিবাচক। আমাদের দেশে অনেকে বলেন, গর্ভাবস্থায় কোনো নারী সূর্য অথবা চন্দ্রগ্রহণের সময় যদি কিছু কাটাকাটি করেন তাহলে গর্ভের সন্তানের নাকি অঙ্গহানি হয়। আসলে এগুলোর সবই কুসংস্কার। মূলত, প্রকৃতির এক অনন্য, অনবদ্য ও খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা হচ্ছে এই সূর্য অথবা চন্দ্রগ্রহণ। এখানে ভিত্তিহীন গল্পগাথা বা কুসংস্কারের কোনো জায়গা নেই।

পৃথিবী ও চাঁদ একটি নির্দিষ্ট নিয়মে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে, এর ফলে সূর্যের বিপরীতে পৃথিবী এবং চাঁদের অবস্থান প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিবর্তন হতে হতে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী যখন একটি নির্দিষ্ট ফ্রেমে অবস্থান নেয় তখনই হয় সূর্য অথবা চন্দ্রগ্রহণ। ব্যাখ্যা দিতে গেলে— আপনার মুখে যদি কেউ টর্চের আলো ফেলে আপনার ছায়া পড়বে আমার পেছনে। আবার আপনার পিঠে আলো ফেললে ছায়া পড়বে আপনার সামনে। এভাবে চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে, সূর্য তখন চাঁদের ওপর সরাসরি আলো ফেলে। এর ফলে চাঁদের ছায়া সোজা গিয়ে পড়ে পেছনে থাকা পৃথিবীর ওপর। পৃথিবীর যে অংশে চাঁদের এই বিশাল ছায়া পড়ে, দিনের বেলাতেই সেই অংশ অন্ধকার হয়ে যায়।
আর তখন সূর্যের দিকে তাকালে মনে হবে যে সূর্য অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে। আসলে সূর্য অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে না বা কোনো রাক্ষসও সূর্যকে গিলে ফেলছে না। প্রকৃতপক্ষে এখানে চাঁদ সূর্যের বরাবর আসায় সূর্য চাঁদের আড়ালে চলে যায়। চাঁদের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে কখনো চাঁদ পুরোপুরি অথবা কখনো আংশিকভাবে সূর্যকে আড়াল করে। একেই আমরা যথাক্রমে পূর্ণ ও আংশিক সূর্যগ্রহণ বলি।
তাই সূর্যগ্রহণ ঘিরে মিথ ও বিশ্বাসের তালিকা অনেক বড়, তবে এটি অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে যে এগুলোর কোনোটিরই বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। এই বিশ্বাসগুলোর বেশিরভাগই প্রতিষ্ঠা পেয়েছে কেবল ধারণার উপর ভিত্তি করে। পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকারক বিকিরণ নির্গত হয়, এমন ধারণা অনেকের। যদিও নাসার বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন এই ধারণা পুরোপুরি ভিত্তিহীন।
তবে সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের দিকে সরাসরি তাকানো বারণ। কারণ, যেকোনো সময়েই সূর্যের দিকে সরাসরি তাকাতে নেই। সে হোক গ্রহণের সময়, কিংবা স্বাভাবিক সময়ে। সূর্যগ্রহণ দেখতে একসময় কাঁসার পাত্রে পানি থেকে শুরু করে ব্যবহার হয়েছে কাজে লাগে না এমন এক্সরে প্লেটও। এখন অবশ্য বিশেষ রোদচশমা দিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। সূর্যগ্রহণ নিয়ে কোনো কুসংস্কারে পাত্তা দেওয়ার কোনো মানে নেই।
