ঘর থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র— সব জায়গাতেই ভুল করলে তার মাশুল দেওয়া লাগে, সেটা হোক কটু কথা শোনা কিংবা ফি গোণা। তবে টোকিওতে অবস্থিত এক রেস্টুরেন্টে ভুল করাই যেন নিয়ম।
এখানকার কর্মীদের ভুল করার স্বাধীনতা আছে। শুধু তা-ই নয়, এই ভুলের জন্য গ্রাহকদের কোনো অভিযোগ জানানোর সুযোগও নেই।
বরং কর্মীদের উৎসাহ দেওয়া হয় ভুলের জন্য! শুনতে অবাক লাগছে না?
জাপানের এই রেস্টুরেন্টে গেলে আপনি যা অর্ডার করবেন, তা-ই সামনে নাও পেতে পারেন।
এমনও হতে পারে যে আপনার পাশের টেবিলে করা অর্ডারটি নিয়ে আসা হলো আপনার টেবিলে।
তবে খাবার যা ই সার্ভ করা হোক, তা খেতে হবে হাসিমুখে।
অদ্ভুত এই রেস্টুরেন্টের অবস্থান জাপানের রাজধানী টোকিওতে। নাম ‘শিরো আগুনি’। এই রেস্টুরেন্টের সব কর্মীই ডিমেনশিয়ার রোগী।
এটি এমন একটি রোগ যাতে স্মৃতিশক্তি কমে যায়। হারিয়ে যায় ভাবনাচিন্তা করার ক্ষমতা।
যুক্তি দিয়ে বিচার করার ক্ষমতাও কমতে শুরু করে এই রোগ হলে। সাধারণত বয়স বাড়লে অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হন।
‘শিরো আগুনি’ রেস্তরাঁটিতে কর্মরত অধিকাংশ কর্মীই ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত।
মূলত ডিমেনশিয়ার রোগীদের সাহায্য করার উদ্দেশ্য নিয়েই ২০১৬ সালে এই রেস্টুরেন্টটি খোলা হয়।
এখানে ডিমেনশিয়া রোগটির বিষয়ে সচেতনতা আনতে বিভিন্ন রকম কর্মসূচির আয়োজন করে।
ডিমেনশিয়ার রোগীদের সমাজে খুবই অবহেলার চোখে দেখা হয়।
কিন্তু তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করলে, হাসিখুশি রাখলে তাদের মানসিক পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
ডিমেনশিয়া রোগীদের ওপর ভরসা রাখা যায় না, তারা কোনো কাজ পারে না— এই ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করতে ডিমেনশিয়ার রোগীদের দিয়েই পুরো রেস্টুরেন্ট চালাচ্ছেন রেস্তরাঁর কর্ণধার।
গ্রাহকরা ব্যাপারটি কেমনভাবে নিচ্ছেন? তাদের মতে, এই রেস্টুরেন্টের সব খাবারই সুস্বাদু।
সুতরাং যা আপনি অর্ডার করছেন, তার বদলে অন্য কিছু আপনার টেবিলে এসে পৌঁছলেও আক্ষেপ হবে না।
প্রতিদিন তাই অসংখ্য লোক ভিড় জমান এখানে। ভুল খাবার পাতে পেয়েও হাসিমুখে খান।

Comments are closed.