ডেঙ্গু হলে প্লাটিলেট বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার

বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু বড় ত্রাসের নাম, কারণ ডেঙ্গুতে শরীরে রক্তের প্লাটিলেট কমে যেত শুরু করে।

 

তাই এ সময় সুস্থ থাকাটা চ্যালেঞ্জের বিষয়।

নবজাতকসহ যে কোন বয়সের মানুষই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

ডেঙ্গু হলে শরীর সুস্থ রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি।

 

যে কারণে ডেঙ্গু জ্বর হয়-

ডেঙ্গু জ্বর এডিস মশার কারণে হয়।

ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন।

এবার এই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশাটি ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়।

এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে।

ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দিলে অতি দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

তবে ডেঙ্গু জ্বর হলে আপনাকে খাবারের প্রতিও বিশেষভাবে মনযোগী হতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তা করার জন্য কয়েকটি খাবার খেতে পরামর্শ দিয়েছেন।

সেই সঙ্গে কয়েকটি খাবার এড়িয়ে যেতেও বলেছেন। দেখে নিন, কোন খাবারগুলো খাবেন আর কোন খাবারগুলো এড়িয়ে যাবেন।

যে খাবারগুলো বেশি করে খাবেন-

কমলা:

কমলা ও কমলার রস ডেঙ্গু জ্বরে ভালো কাজে আসতে পারে।

কারণ এটিতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিওক্সিডেন্ট।

আর এই দুটি উপাদান ডেঙ্গু জ্বর নিয়ন্ত্রণে ভালো কাজ করে।

কমলা

ডালিম:

ডালিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন।

সেই সঙ্গে এতে রয়েছে পরিমাণ মতো মিনারেল।

যদি আপনি নিয়ম করে ডালিম খান তাহলে বেড়ে যাবে প্লেটলেটের সংখ্যা।

এই উপকারী ফলটি খেলে ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভূতিও দূর হবে।

প্রাচীন কাল থেকে এই ফলটি রোগ নিরাময়ের পথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ডালিম

ডাবের পানি:

ডেঙ্গুর জ্বর হলে শরীরে তরল পদার্থের শূন্যতা সৃষ্টি হয়।

সৃষ্টি হয় ডিহাইড্রেশন।

এ সময় বেশি বেশি করে ডাবের পানি পান করলে উপকার পাওয়া যাবে।

কেননা ডাবে রয়েছে ইলেক্ট্রোলাইটসের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি।

ডাবের পানি

পেঁপে পাতার জুস:

ডেঙ্গু জ্বর হলে রোগীর শরীরে কমে যেতে পারে প্লেটলেট।

তাই এ সময় আপনার উপকার করতে পারে পেঁপে পাতা।

পেঁপে পাতায় পাপাইন এবং কিমোপেইনের মতো এনজাইম সমৃদ্ধ যা হজমে সহায়তা করে।

সেই সঙ্গে বৃদ্ধি করেতে পারে প্লেটলেটের পরিমাণও।

সেজন্য আপনাকে প্রতিদিন নিয়ম করে ৩০ এমএল পেঁপে পাতার তৈরি জুস খেতে হবে।

আপনি ঘরে বসেই তৈরি করতে পারবেন এ জুস।

পেঁপে পাতার জুস

হলুদ:

ডেঙ্গু জ্বরে কাজে আসতে পারে হলুদও।

এর জন্য আপনাকে এক গ্লাস দুধের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে পান করতে হবে।

এটি আপনাকে অতি দ্রুত সুস্থ্য করে তুলবে।

হলুদ

মেথি:

ডেঙ্গু জ্বর হলে কাজে আসবে মেথি।

এটি আপনাকে অতি সহজে ঘুমিয়ে যেতে সহায়তা করেবে।

সেই সঙ্গে সহয়তা করবে অতিরিক্তমাত্রার জ্বর কমিয়ে আনতে।

তবে মেথি গ্রহণ করার পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরমার্শ করে নিতে হবে।

মেথি

ব্রকলি:

ব্রকলিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে থাকে যা রক্তের প্লেটলেট বা অণুচক্রিকা বাড়ায়।

যদি কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তাহলে তাকে ব্রোকলি খাওয়াতে পারেন।

তবে কখনোই বেশি মশলা দিয়ে রান্না না করে বরং সেদ্ধ করে খাওয়া বেশি ভালো।

ব্রকলি

 

পালংশাক:

পালংশাকে প্রচুর পরিমাণে আইরন এবং ওমেগো-থ্রি ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়।

এটি আবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেতে সহায়তা করে।

এই শাকটি বেশি করে গ্রহণ করলে অতি দ্রুত প্লেটলেট বৃদ্ধি পায়।

পালংশাক

কিউইফল:

কিউইফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন পাওয়া যায়।

সেই সঙ্গে এটিতে পটাশিয়ামও রয়েছে।

এই ফলটি বেশি খাওয়ার ফলে ইলেক্ট্রোলাইট স্তর এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

এ ফলটি খেলে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

কিউইফল

ডেঙ্গু জ্বরের সময় যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন-

মসলাযুক্ত খাবার:

ডেঙ্গু রোগীকে অবশ্যই মসলাযুক্ত খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

এই ধরনের খাবার বেশি করে খেলে পাকস্থলীর দেয়াল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

মসলাযুক্ত খাবার

ক্যাফিনযুক্ত পানীয়:

ডেঙ্গু হলে তরল খাবার বেশি করে খেতে হবে।

সেই সঙ্গে ক্যাফিনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে।

এই খাবারগুলো হার্ট রেট বাড়িয়ে দিতে পারে।

সেই সঙ্গে ক্লান্তি নিয়ে আসতে পারে।

ক্যাফিনযুক্ত পানীয়

তৈলাক্ত ও ভাজা খাবার:

ডেঙ্গু জ্বর হলে অবশ্যই তৈলাক্ত ও ভাজা খাবরগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

এই খাবারগুলো খেলে উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।

তৈলাক্ত ও ভাজা খাবার

এনএএন টিভি