জুলাই সনদ’ নিয়ে অনিশ্চয়তা: জাতীয় ঐকমত্য কতটা সম্ভব?
মাত্র ৪১ দিন বাকি, ১৬৬টি প্রস্তাবের মধ্যে ঐকমত্য মাত্র ৪২টিতে | রাজনৈতিক বিভেদ ও মতপার্থক্য স্পষ্ট
জাতীয় ঐকমত্য গঠনের জন্য আট মাস ধরে চলা সংলাপ এখন চূড়ান্ত ধাপে। পরিকল্পনা অনুযায়ী জুলাইয়ের মধ্যে ১৬৬টি সংস্কার প্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি জাতীয় সনদ প্রস্তুত করার লক্ষ্য নিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, যা ইতিমধ্যেই ‘জুলাই সনদ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু সময় গড়ালেও রাজনৈতিক ঐকমত্য নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা ও অনিশ্চয়তা।
সময় অল্প, কাজ বিশাল
বর্তমানে জাতীয় সনদ তৈরির জন্য সময় বাকি মাত্র ৪১ দিন, যার মধ্যে কার্যদিবস আরও কম—শুধু ৩০ দিন। এই স্বল্প সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ১৬৬টি সংস্কার প্রস্তাবের অধিকাংশে ঐকমত্য তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
১৬৬টি প্রস্তাব, ঐকমত্য মাত্র ৪২টিতে
প্রথম ধাপের সংলাপে দলগুলো মোট ৪৫টি বৈঠকে অংশ নেয়। তার মধ্যে:
দুর্নীতি দমন কমিশন: ২০টি প্রস্তাবে ৭টিতে ঐকমত্য
বিচার বিভাগ: ২৩টির মধ্যে ৮টিতে
সংবিধান সংস্কার: ৭০টির মধ্যে ১০টিতে
নির্বাচন ব্যবস্থা: ২৭টির মধ্যে ৮টিতে
জনপ্রশাসন সংস্কার: ২৬টির মধ্যে ৯টিতে
অর্থাৎ, ১২৪টি প্রস্তাবে এখনো কোনো ঐকমত্য নেই।
দ্বিতীয় ধাপেও মতবিরোধ
ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের সংলাপে অংশ নেয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। যদিও কিছু বিষয়ে সামান্য ঐকমত্য দেখা গেছে, তবে বৈঠক হয়েছে উত্তপ্ত:
জামায়াতে ইসলামী সংলাপ প্রতীকীভাবে বয়কট করে
সিপিবি ও গণফোরাম ওয়াকআউট করে সময় বন্টন নিয়ে
আসনবিন্যাস নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলডিপি ও বাম গণতান্ত্রিক জোট
আমন্ত্রণ পেয়ে ক্ষোভ জানায় গণঅধিকার পরিষদ ও লেবার পার্টি
যেসব বিষয়ে আংশিক ঐকমত্য
৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটের সুযোগ
সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের সভাপতির অংশগ্রহণ
সংরক্ষিত নারী আসন একশতে উন্নীত করা
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো ও নির্বাচনী পদ্ধতির পরিবর্তন
রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ‘জুলাই সনদ’ কতটা সম্ভব?
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, “সব প্রস্তাবে ঐকমত্য হবে না। যেগুলোতে হবে না, সেগুলো বাদ যাবে। যেগুলোতে হবে, তা নিয়েই তৈরি হবে জুলাই সনদ।”
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. নুরুল আমিন বেপারী মনে করেন, “সংস্কারকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পিছিয়ে গেলে বা সংঘাত হলে তা হবে দুঃখজনক। এখনই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসা দরকার।”
‘জুলাই সনদ’ কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অনাস্থা এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। ঐকমত্য ছাড়া জাতীয় সনদ কতটা কার্যকর হবে, সে প্রশ্ন এখন জাতির সামনে।

One Reply to “ঐক্য বহুদূর,অনেক বিষয়েই”
Comments are closed.