কমছে মাতৃদুগ্ধ পান, বাড়ছে নবজাতকের মৃত্যুঝুঁকি

বাংলাদেশে জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুর জন্য একমাত্র খাবার হওয়া উচিত মায়ের দুধ– এমনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ দীর্ঘদিন ধরে সুপারিশ করে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা ও স্বাস্থ্য জরিপে দেখা যাচ্ছে, দেশে মাতৃদুগ্ধপান করা শিশুর হার ক্রমেই কমছে, যা নবজাতক ও শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনএফ’ এর উপদেষ্টা অধ্যাপক সুফিয়া খাতুন, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইসিএমএইচ) পরিচালক, বিএনএফ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মজিবুর রহমান, বিপিএস এর সভাপতি অধ্যাপক লায়লা আর্জুমান্দ বানু এবং সাংবাদিক এ কে এম সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনএফের সভাপতি অধ্যাপক মো. মাহবুবুল হক।

বিএনএফ’র সভাপতি অধ্যাপক মো: মাহবুবুল হক বলেন, বাংলাদেশে যদি সকল শিশু জন্মের পর প্রথম ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ পেতে শুরু করে এবং ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মাতৃদুগ্ধপান করে, তাহলে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার নবজাতকের মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
বিএনএফ’র উপদেষ্টা অধ্যাপক সুফিয়া খাতুন বলেন, মাতৃদুগ্ধপানের হার বাড়াতে হলে- বেসরকারি খাতে অন্তত ৬ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা; সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে স্তন্যদান কর্ণার স্থাপন; শিশুখাদ্য বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে কড়া আইন প্রয়োগ; গর্ভাবস্থা থেকেই মায়েদের পুষ্টি ও স্তন্যপান বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরিবার ও কর্মস্থলে স্তন্যপান-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিপিএস মহাসচিব অধ্যাপক মোঃ আব্দুল মান্নান, শিশুর জন্য মায়ের দুধের বিকল্প নেই। এটি শুধু খাদ্য নয়, এটি জীবনরক্ষাকারী প্রতিষেধক। যে দেশ যত বেশি মাতৃদুগ্ধপান নিশ্চিত করতে পারে, সে দেশের শিশুমৃত্যুর হার তত কম।

এনএএন টিভি

 

Share this news as a Photo Card