কোন দিকে যাচ্ছে জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ

গৃহপালিত বিরোধী দল হিসেবে একই সাথে সরকারি ও বিরোধী দলের রোল প্লে করতে করতে জাতীয় পার্টি শেষ। এককভাবে নির্বাচন করলে তারা সারা দেশে সর্বোচ্চ ২-৩ টি আসন পেতে পারে, এমনকি পার্টির প্রেসিডেন্ট জি এম কাদেরের আসনটিও সুরক্ষিত নয়। রংপুরে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন এবং আওয়ামী লীগ সবার ভোট বেড়েছে, কমেছে জাপার। এমন কমা কমেছে যে, সবদলের অংশগ্রহণে জোট মুক্ত একক ভোট হলে জাপা রংপুরের সবগুলো আসনেই হেরে যেতে পারে। এরশাদ বেঁচে থাকলে একাই রংপুরের ৫ আসনে জিতে দলটার মান বাঁচাতেন। কিন্তু সেই রিয়েলিটি এখন আর নাই।

এর আগে জাতীয় পার্টির ভাঙাভাঙির কাজটা সম্পন্ন হয়ে গেছে। চেয়ারম্যানের পদ একটা। দুজন জ্যেষ্ঠ নেতা চেয়ারম্যান হতে চাইছিলেন—জি এম কাদের ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। অনেক রকম সমাধান ছিল। যা হোক, যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। দলটা দুই ভাগ হয়ে গেল। যাঁরা আফসোস করছেন, তাঁদের জন্য বলে রাখি, এটা জাতীয় পার্টির ষষ্ঠতম ভাঙন। আগের ভাঙনগুলো ছিল এই রকম—মঞ্জু (১৯৯৬), নাজিউর (১৯৯৯), মতিন (২০০৩), জাফর (২০১৩), রওশন (২০২৪)। আশা করি, সব ভাঙনের হিসাব মিলেছে।

বিএনপিকে অনেক গালাগালি, সামাজিক চাপ, নাগরিকের সমাজের চাপ সইতে হয়েছে বিগত দশকে। আশার কথা এর মাধ্যমে দলটির কিছু শিক্ষাও হয়েছে। রাজনীতিতে বিএনপির কনফিডেন্স ও প্রস্তুতি কম বলে তাকে গালাগালি করলে, চাপ দিলে সে শুনে। ফলে সে ক্ষমতায় আসলে শিক্ষা নিয়ে কী করবে, বিদ্যুৎ নিয়ে কী করবে, আর্থিক সংস্কার নিয়ে কী করবে- এমন কিছু চিন্তা করেছে, দলীয় ফোরামে এবং সংবাদ সম্মেলন করে এগুলা বলেছে। তার আগে ৩১ দফার একটা সংস্কার প্রস্তাবনা এবং ভিশন ২০৩০ রূপরেখা আছে। বিএনপি নিয়ে যারা খোঁজ রাখে না, তারা এসব জানেন না হয়ত। কিন্তু ভুলভাল হলেও কাজগুলা তারা করেছে। এমনকি মধ্যপন্থী ও উদার বামের ছোট ছোট দলের সাথে বসে সে রাষ্ট্র সংস্কারের একটা রূপরেখায় সম্মতও হয়েছে। এখানে তার আন্তরিকতা কতটা সেটা সময়ই বলে দিবে, তবে বিএনপি যে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে, সংবিধান সংস্কারে রাজি হয়েছে এটা বাংলাদেশের ছোট ছোট মধ্যপন্থী দলগুলোকে সাথে নিয়ে বিএনপির সাম্প্রতিক একটা অর্জন বলবো। বিএনপির ভিশন-২০৩০ পুরনো হয়ে গেছে, এতে লক্ষ্যগুলো অস্পষ্ট, কিছু ক্ষেত্রে ভেগ, অর্থাৎ এটা নবায়ন করার দরকার আছে সত্য, কিন্তু তারপরেও তাদের হাতে ভুলভাল হলেও একটা কিছু আছে।

নির্বাচনে জাতীয় পার্টির জন্য আওয়ামী লীগের ২০ শতাংশ ভোট বেঁধে রাখা আছে। অনেকেই মনে করেন নির্বাচনের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের এই ভোট হুড়মুড় করে জাতীয় পার্টির বাক্সে চলে আসবে। তার সঙ্গে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে যদি আরও কিছু ভোট যোগ করা যায়! রংপুরে জাতীয় পার্টির ভোট ব্যাংক নাই হয়ে গেছে এমন তো নয়।

বেশ কয়জন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞ এরই মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, জাতীয় পার্টিই হবে প্রধান বিরোধী দল। জাতীয় পার্টিও সম্ভবত তা-ই চায়। সরকারি দল কারা হবে, তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। জি এম কাদের ও জাতীয় পার্টির জন্য কীভাবে যেন সব মিলে যাচ্ছে!