‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার গোপালগঞ্জে গিয়েছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। কিন্তু একাধিকবার তাদের ওপর হামলা হয়েছে। আর এ হামলার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি চেষ্টা চালায়। হামলা ও সংঘর্ষে রাত ২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চারজন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সাংবাদিক, পুলিশসহ কমবেশি আহত হয়েছেন অন্তত ১০০ জন।
পরিস্থিতিতে শহর জুড়ে প্রথমে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। পরে রাত ৮ থেকে আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়।
গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে হামলা, সংঘর্ষে নিহতরা হলেন গোপালগঞ্জ শহরের উদয়ন রোডের বাসিন্দা সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা (২৫) ও কোটালীপাড়ার রমজান কাজী (১৮), ভেড়ারবাজার এলাকার আজাদ তালুকদারের ছেলে ইমন তালুকদার, টুঙ্গীপাড়ার সোহেল মোল্লা (৪১)।
গতকাল বিকেল পৌনে ৫টার দিকে গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শেখ মো. নাবিল সাংবাদিকদের বলেন, বিকেলে তিনজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তারা সবাই গুলিবিদ্ধ ছিলেন।
গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে হামলায় এতে যমুনা টিভির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোজাম্মেল হোসেন মুন্না ও ডিবিসি টেলিভিশনের রিপোর্টার সুব্রত সাহা বাপিসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। তারাসহ এ ঘটনায় আহত অনেককে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, মুজিববাদীরা আজ বাধা দিয়েছে। আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বলেছিলাম, ‘বাধা দিলে বাধবে লড়াই। সেই লড়াইয়ে জিততে হবে’। আজ আবারও বাধা দিয়েছে। আর লড়াইয়ে আমরা জিতব। এর জবাব আমরা দেব ।
গোপালগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

One Reply to “গোপালগঞ্জ রণক্ষেএ ৪ জন এর মৃত্যু”
Comments are closed.