আগামী ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ সমাবেশকে সামনে রেখে সংগঠনটি প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ‘জাতীয় সমাবেশ’ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্র-জনতার বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান জাতীয় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই-আগস্টের জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং জীবন উৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী এই সমাবেশের আয়োজন করেছে। জাতীয় সমাবেশ সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য সংগঠনের সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
দলটির নেতারা জানান, জাতীয় নির্বাচনের সময়সীমা যতই এগিয়ে আসছে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি প্রস্তুতি ততই বাড়ছে। জামায়াতে ইসলামীও নির্বাচনি প্রস্তুতিতে এগিয়ে রয়েছে। সারা দেশে আসনভিত্তিক একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা চতুর্মুখী তৎপরতায় ব্যস্ত সময় পার করছে।
এদিকে সোমবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শন করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সমাবেশের জন্য ৩১ ফুট প্রস্থ ও ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট মঞ্চ থাকবে। প্যান্ডেলের ভেতরে এলইডি প্রজেক্টর এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সিসি টিভির ব্যবস্থা থাকবে।
‘নির্বাচনি সমঝোতা’ নিয়ে আশাবাদী জামায়াত, তবে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে আছে বিভক্তিও: এদিকে ইসলামপন্থি দলগুলো নিয়ে ‘নির্বাচনি সমঝোতা’ করার চেষ্টা চালাচ্ছে জামায়াত। তবে এখন পর্যন্ত ‘ইসলামি দলগুলোর ঐক্য’ বলতে মোটাদাগে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে অনেকটা কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে। অবশ্য দল দুটি কখনো এক ছাতার নিচে আসেনি; বরং একধরনের দূরত্ব বজায় রেখেছে। সামনে তফশিল ঘোষণার পর নির্বাচনি সমঝোতার বিষয়টি দৃশ্যমান হতে পারে।
জামায়াতের সাত দফা দাবি : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ও অন্যান্য সময় সংঘটিত সব গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্রের সব স্তরে প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, ঐতিহাসিক জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্রের পূর্ণ বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ ও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতকরণ।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন প্রমুখ।
