আইপিএলের চলতি আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন যশস্বী জসওয়াল।
রোববার আইপিএলের রেকর্ড পাঁচ আসরের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ৬২ বলে ১২৪ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন রাজস্থান রয়েলসের এই তরুণ ওপেনার ।
চলতি আইপিএলে রাজস্থান রয়েলসের হয়ে ধারাবাহিক রান করে যাচ্ছেন জসওয়াল।
ইতোমধ্যে ৯ ম্যাচে ৪৭.৫৫ গড়ে সর্বোচ্চ ৪২৮ রান করেক্রিকেটে শীর্ষে রয়েছেন ২১ বছর বয়সী এই তারকা।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের ভাদোহি জেলার সুরিয়া এলাকায় জন্ম নেয়া জসওয়ালের ক্রিকেটা হয়ে ওঠা রূপকথার গল্পের মতো।
তার বাবা ভূপেন্দ্র রং বিক্রি করতেন, বেসরকারি স্কুলে পড়াতেন মা কাঞ্চন।
চার সন্তানের লালন-পালনের পর যশস্বীকে ক্রিকেটার বানানোর খরচ জোগানো অসম্ভব হয়ে যায়।
মাত্র দশ বছর বয়সে মুম্বাই চলে আসেন জসওয়াল। রুটি-রুজির জন্য কখনও ফুচকা কখনও ফল বিক্রি করতেন। অন্যের দোকানেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
কাজের ব্যস্ততার কারণে মুম্বাইয়ের আজাদ মাঠে সেভাবে অনুশীলনের ফুসরত ছিল না।
সেই সময়ে আজাদ মাঠের এক কর্মীর সঙ্গে পরিচয় হয়ে যাওয়ায় তার সঙ্গে তাঁবুতে রাত কাটানোর সুযোগ পান জসওয়াল।
সেখানে বিদ্যুৎ ছিল না, খাওয়ার পানিও ছিল না। শুধু ছিল ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন।
আজাম মাঠে অনুশীলন করার সুবাদে পরিচয় হয় সেখানকার জনপ্রিয় কোচ জ্বালা সিংহের সঙ্গে। তিনি জসওয়ালকে বাড়িতে নিয়ে হবু স্ত্রী বন্দনাকে বলেন,
এই ছেলেটাকে নিজের ছেলের মতোই গড়ে তুলতে হবে। বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
মুম্বাইয়ের সান্তাক্রুজে নিজের অ্যাকাডেমি রয়েছে জ্বালার। সেখানেই ক্রিকেট সাধনা শুরু হয় যশস্বীর। তার চেষ্টা বিফলে যায়নি।
২০১৫ সালে স্কুল ক্রিকেটে তার ৩১৯ রানের ইনিংস এবং ৯৯ রান দিয়ে ১৩ উইকেট জায়গা করে নেয় লিমকা বুক অব রেকর্ডসে।
এরপর সুযোগ পান ভারতের অনূর্ধ্ব-১৬ দলে। ধীরে ধীরে জায়গা করে নেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও। এরপর ২০২০ সালে যুব বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার।
১৩৩ গড়ে টুর্নামেন্টে ৪০০ রান। সেমিফাইনালে ম্যাচ-জেতানো সেঞ্চুরি ও চারটি হাফ-সেঞ্চুরির অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা।
রোববার আইপিএল ১৬তম আসরের ৪২তম ম্যাচে মুম্বাইয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার পর জসওয়াল বলেন,
পদ্ধতি ঠিক রেখে শুধু কঠোর পরিশ্রম করে যেতে চাই। পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই।
