চট্টগ্রাম বন্দরের ৪ নম্বর ফটক স্বাভাবিক সময়ে রপ্তানি ও আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনারের জন্য ব্যস্ত থাকে, যেখানে পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। তবে আজ বুধবার ফটকের আশপাশে কোনো পণ্য পরিবহনের গাড়ি দেখা যায়নি এবং ফটকের দুই পাশই বন্ধ ছিল। ব্যক্তিগত যানবাহন ঢোকা বা বের হওয়ার সময় এক পাশে লোহার দরজা খোলা হয়েছে। একই পরিস্থিতি বন্দরের অন্যান্য ফটকেও লক্ষ্য করা গেছে। ফটক পেরিয়ে বন্দরের তিনটি টার্মিনালে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে; কোনো কনটেইনার ওঠানো-নামানো হচ্ছে না। জেটিতে থাকা ১১টি জাহাজের ক্রেন গুটিয়ে রাখা হয়েছে, গ্যান্ট্রি ক্রেনের বুমও একইভাবে স্থির রাখা হয়েছে।
এনসিটি ইজারার প্রতিবাদে ডাকা লাগাতার কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন আজ বুধবার বেলা ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্দর এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখেছেন প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক সৌরভ দাশ। ২০০৭ সাল থেকে গত ১৯ বছরে শ্রমিক-কর্মচারীদের এমন কর্মসূচি দেখা যায়নি।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়। তবে বিকেলে ২৪ ঘণ্টার বদলে লাগাতার কর্মবিরতির ডাক দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। এর আগে, গত শনিবার থেকে টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা।
বন্দরের এই তিনটি টার্মিনাল—জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দিয়ে সিংহভাগ কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়। গত অর্থবছরের হিসাবে, বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি হওয়া মোট কনটেইনারের ৯৭ শতাংশ এই তিন টার্মিনালে ওঠানো-নামানো হয়েছে। বাকি তিন শতাংশ ওঠানো-নামানো হয় সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে পরিচালিত আরএসজিটি চিটাগং টার্মিনালে। ২০২৪ সালে সৌদি কোম্পানি টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্ব পায়।
