টেকনাফ এ কমান্ডারসহ ছয় সদস্য গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার গহিন পাহাড়ের একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী

আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সামরিক কমান্ডারসহ ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে সাতটি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও টাকা।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকার গহিন পাহাড়ে এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা উখিয়ার বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

এ বিষয়ে আজ শনিবার দুপুরে র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন,

টেকনাফের গহিন পাহাড়টিতে আরসা সন্ত্রাসীরা গোপন আস্তানা তৈরি করে ‘টর্চার সেল’ গড়ে তুলেছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে আরসার সামরিক কমান্ডারসহ ছয়জনকে অস্ত্র, গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আরসার সামরিক কমান্ডার হাফেজ নুর মোহাম্মদ (২৮) উখিয়ার কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে বাসিন্দা দিল মোহাম্মদের ছেলে।

অপর পাঁচ আরসা সদস্যরা হলেন একই আশ্রয়শিবিরের মোহাম্মদ হোসেন জোহার (৩০), মো. ফারুক হারেস (২৩), মনির আহাম্মদ (৩৬), নূর ইসলাম (২৯) ও মো. ইয়াছিন (২১)।

তাঁদের গ্রেপ্তারের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল,

একটি বিদেশি রিভলবার, একটি শটগান, চারটি দেশীয় তৈরি এলজি, তিনটি রামদা,

গুলিসহ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, আরসার গোপন আস্তানার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর গহিন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে প্রথমে আরসার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও

কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের সামরিক কমান্ডার হাফেজ নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা খুন, অপহরণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, হাফেজ নুর মোহাম্মদের নেতৃত্বে আরসার ৩০-৩৫ জন সদস্য কুতুপালং আশ্রয়শিবির ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় খুন,

অপহরণ, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তাঁরা পার্শ্ববর্তী দেশ (মিয়ানমার) থেকে দুর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে অস্ত্র চোরাচালান করতেন।

হাফেজ নুর মোহাম্মদ তাঁর দলের সদস্যদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণকে খুন,

অপহরণ ও গুমের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করতেন।

চাঁদার অর্থ না পেলে অপহরণ করে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ আদায় করতেন।

মুক্তিপণ না পেলে তাঁরা খুন করে গহিন পাহাড়ে অথবা জঙ্গলে লাশ গুম করতেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের টেকনাফ থানায় সোপর্দ করে মামলার করার কথা জানান র‍্যাবের আইন ও

গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ক্যাম্পে আরসার সাড়ে ৪৫০ সন্ত্রাসী সক্রিয় আছে।

তাদের ধরতে র‍্যাব অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card