নীলফামারীতে তথ্য অফিসের আয়োজনে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ২৯০ জন টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশই ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু। ফলে দেশে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরাই।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) নীলফামারী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত ‘টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম’ বিষয়ক এক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়।
দিনব্যাপী কর্মশালায় স্কাউটস ও গার্লস গাইডের ৫০ জন সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। জেলা তথ্য কর্মকর্তা বায়েজীদ হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাইদুল ইসলাম। সহকারী জেলা তথ্য কর্মকর্তা কবির উদ্দিনের সঞ্চালনায় টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির কার্যক্রম উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার আতাউর রহমান শেখ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দ এ মু’মেন, ডালিয়া ইয়াসমিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোছাদ্দিকুল আলম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নীলফামারীর মেডিক্যাল অফিসার মিজানুর রহমান।
কর্মশালায় জানানো হয়, নীলফামারী জেলায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৭ জন শিশুকে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থী ৩ লাখ ৮০ হাজার ৫০৫ জন এবং বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩২ জন।
মেডিক্যাল অফিসার আতাউর রহমান শেখ জানান, আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ১ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত কমিউনিটি পর্যায়ে এবং ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকা প্রদান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, টিকা গ্রহণের আগে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন কার্যক্রমে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার সহযোগিতা করছে।
জেলা তথ্য কর্মকর্তা বায়েজীদ হোসেন জানান, “শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ইউনিসেফ বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তায় এ ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাইদুল ইসলাম বলেন,  “আমরা যে যেখানে দায়িত্বে আছি, এই টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে সবারই এগিয়ে আসা জরুরি। প্রচারণা চালাতে হবে এবং অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় মানুষকে সহযোগিতা করতে হবে।”
এনএএন টিভি / ওমর ফারুক