আজ সকাল ৯টার দিকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ও চাঁদখানা ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডে আকস্মিক এক ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ৫৪৮টি পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫১ জন, যাদের মধ্যে একজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৮৩০০টি গাছপালা ভেঙে পড়েছে, ৩টি গরু মারা গেছে এবং ৩০–৩৫টি গবাদিপশু আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘূর্ণিঝড়ের খবর পাওয়ার পরপরই উপজেলা প্রশাসন উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম শুরু করে। বিকাল ৩টায় জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), ডিআরআরও, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এবং উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
প্রশাসনের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিম, ভেটেরিনারি ক্লিনিক, কৃষি বিভাগ, পল্লী বিদ্যুৎ, যুব সংগঠন, ভিডিপি সদস্য, এলজিইডি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
গৃহীত ব্যবস্থা:
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৫৫০ ব্যাগ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে (বিতরণ কার্যক্রম চলমান)।
২০ মেট্রিক টন জি.আর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
৫৫০ পিস কম্বল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
২০০০ জন মানুষের জন্য রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কাছাকাছি ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাতযাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা ও সহযোগিতায় নিয়োজিত আছেন।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, “ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে জেলা প্রশাসন সবসময় থাকবে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।”
এনএএন টিভি / ওমর ফারুক
