নিহত বিজিবি সদস্যের মরদেহ গ্রামের বাড়ি নেওয়া হচ্ছে

বেনাপোলের ধান্যখোলা জেলেপাড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বিজিবি সদস্য মোহাম্মদ রইসুদ্দীনের মরদেহ দু’দিন পর ফেরত দিয়েছে ভারত কর্তৃপক্ষ।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে শার্শার শিকারপুর সীমান্তে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

এসময় বিএসএফের ১০৭ ব্যাটালিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ নেওয়া হচ্ছে তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের শ্যামপুর সাহাপাড়ায়।

এদিকে মরদেহ গ্রহণের পর নেওয়া হয় যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টারে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান, দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহমেদ,

খুলনা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রেজাউল কবির, ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আহমেদ হাসান জামিলসহ পদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

জানাজা শেষে বেলা ২টা ৫০ মিনিটে নিহত সৈনিক রইসুদ্দীনের মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে তার গ্রামেরবাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের শ্যামপুর সাহাপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

গত সোমবার ভোরে সীমান্তের ওপারে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন বিজিবি সদস্য রইসুদ্দীন।

বিজিবি’র ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আহমেদ হাসান জামিল জানান,

ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিএসএফকে বিষয়টির ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্তের দাবির পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বিজিবি যশোর ব্যাটালিয়নের ধান্যখোলা বিওপি’র জেলেপাড়া পোস্ট সংলগ্ন এলাকায়

ভারত থেকে আসা একদল গরু চোরাকারবারিদের সীমান্ত অতিক্রম করে আসতে দেখলে দায়িত্বরত বিজিবি টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা দৌড়ে ভারতের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এসময় বিজিবি টহল দলের সদস্য সিপাহী মোহাম্মদ রইসুদ্দীন চোরাকারবারিদের পেছনে ধাওয়া করতে করতে ঘন কুয়াাশার কারণে দলবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

প্রাথমিকভাবে তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায় তিনি বিএসএফের গুলিতে আহত হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই এ বিষয়ে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক করা হয় এবং জানা যায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উক্ত সৈনিক মৃত্যুবরণ করেন।

স্থানীয় ধান্যখোলা জেলেপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা জানান,

সোমবার ভোরে তারা অন্তত ৭-৮ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন। পরে সকালে সীমান্তের ওপারে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

তারা বলেন, সীমান্ত দিয়ে ভোরে গরু চোরাকারবারিদের ধাওয়া করার সময় বিএসএফের ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ হন রইসুদ্দীন নামে বিজিবি’র এক সদস্য।

বিএসএফ সদস্যরা তাকে ভারতের বনগাঁ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তিনি মারা যান।

 

এনএএন টিভি