নরসিংদীর মেঘনা নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি

নরসিংদীর মেঘনা নদীর অথৈ জলে ডুবে নিখোঁজ হওয়া মো. গালিব (১৪) ও সাইদুল (১৬) নামে দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ওই কিশোর নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল আলোকবালি ইউনিয়নের গৌরীপুরার চরে (আফজালের চর) এলাকায় মেঘনায় পড়ে যাওয়া ফুটবল তুলতে পানিতে নামলে ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর খবর পেয়ে করিমপুর নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে । ডুবে যাওয়া ওই কিশোরদ্বয় হলো- নরসিংদী পলাশের ঘোড়াশাল পৌর এলাকার দড়িহাওলা পাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে মো. গালিব ও রায়পুরা উপজেলার বরইতলা গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে সাইদুল। তারা দুজনেই নরসিংদীর জামেয়া কাসেমিয়া কামিল মাদ্রাসার ছাত্র এবং কোরআনে হাফেজ। ঘোড়াদিয়া পূর্ব পাড়ার মোহাম্মদদীয়া ইন্টারন্যাশনাল তাফজিুল কুরআন মাদ্রাসার ছাত্র। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা রাত ৯টা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চালালেও করিমপুর নৌ-পুলিশ উদ্ধার কাজ চালিয়ে যায় রাত ১২টা পর্যন্ত। রাত ১২টার পর থেকে উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, সকালে পুনরায় শুরু হবে বলে নিশ্চিত করে করিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপ পরিদর্শক) কামরুল হাসান।

করিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামরুল হাসান জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে নরসিংদীর জামেয়া কাসেমিয়া কামিল মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকসহ প্রায় ৩২ জন আলোকবালির গৌরীপুরার চরে নৌ ভ্রমনে যায়। সেখানে পৌছে দুইজন ছাড়া বাকিরা নদীতে গোসল করতে নামে। সবাই সাতার জানলেও নিখোঁজ গালিব সাঁতার না জানায় নদীর কুলে হাঁটুপানিতে গোসল করতে নামে এবং সাইদুল ফুটবল ধরে পানিতে গোসলে নামে। গোসল শেষে সবাই নৌকায় উঠলেও গালিব ও সাইদুল উঠতে পারেনি। তাদে দু’জনকে দেখতে না পেয়ে সহপাঠীসহ অন্য ছাত্র-শিক্ষকরা খোঁজাখুঁজি করে। খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে তারা ধারণা করছে পানির স্রোতে দুজনে নদীতেডুবে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছে। নরসিংদীর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স’র ফায়ার ফাইটার মো. জহর আলী জানান, দুই ছাত্রের নিখোঁজের সংবাদে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। প্রবল স্রোতের বিপরীত রাত ৯টা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়েও স্রোতের কারণে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আগামীকাল সকাল থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান চালানো হবে। তবে নৌ-পুলিশ এখনও উদ্ধার কাজ অব্যাহত রেখেছে।

Share this news as a Photo Card