বিস্ফোরণে ছেলে-স্বামীর একই সাথে মৃত্যু; বাকরুদ্ধ তাহমিনা

বিস্ফোরণে নিহত ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে একাধিকবার মূর্ছা গিয়েছিলেন তাহমিনা বেগম। লাশ দাফনের পর থেকেই বাক্‌রুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর ছেলেকে কবরে শুইয়ে দেওয়ার এক দিন যেতেই একই দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন তার স্বামীও। একইসাথে এত শোক সইতে পারবেন না, তাই পরিবারের সদস্যরা তাহমিনাকে জানালেন তাঁর স্বামীর মৃত্যুর খবর।

জানা যায়, নিহত ফারদিন ডেক ক্যাডেটের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। জাহাজে চাকরি করার ইচ্ছা ছিল তাঁর। অপরদিকে, কুতুব উদ্দিন চেয়েছিলেন, একটি ঘর নির্মাণ করে ছেলেকে বিয়ে করাবেন। ঘর করতে বাড়ির পাশে কিছু জায়গাও কিনেছিলেন। দুজনের কারও ইচ্ছা পূরণ হলো না।

তাহমিনা বেগম বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে তেলের ট্যাংকার এমটি ইবাদি-১–এ বিস্ফোরণে নিহত ফারদিন আরাফাতের (২২) মা।

গত বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলেই ফারদিন আরাফাতের মৃত্যু হয়। শনিবার রাতে তাঁকে দাফন করা হয়।

দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান তাহমিনার স্বামী কুতুব উদ্দিন।

তাহমিনার ভাই নিয়াজ মোরশেদ বলেন,

‘তাঁর ভগ্নিপতির মৃত্যুর খবর বোনকে জানানো হয়নি। রাতে বাড়িতে লাশ পৌঁছালে তখন জানানো হবে।

সন্তানের পর স্বামীর মৃত্যুর খবর সইতে পারবেন না, তাই পরিবারের সদস্যরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তাই বোনের অগোচরেই তাঁর ভগ্নিপতির কবর খোঁড়াসহ লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান নিয়াজ মোরশেদ।’

উল্লেখ্য, ৯ মে ছেলে ফারদিন আরাফাত বাবার তেলের ট্যাংকারে বেড়াতে যান। একই দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে দুজনই না–ফেরার দেশে চলে গেলেন।

আরও পড়ুন :

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card