আর্ন্তজাতিক মানের নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্ক পরির্দশন করেছেন বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের মহাপরিচালক ডা.জীন্নাত রেহেনা। এ পার্কে ঈদ ছাড়াও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
জানাগেছে, ঈদের দিন থেকে এ পযর্ন্ত দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে পার্কটিতে। নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীর পাঁচদোনার চৈতাব ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থিত পার্কটিতে প্রতি বছরের ন্যায় পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে আকর্ষণীয় রাইডের পাশাপাশি বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে।এবার দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে তুলেছে ওয়াটার পার্কের পাশে সুনামির ঢেউ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সব বয়সী মানুষ এই পার্কে বেড়াতে আসেন।
পার্কটি ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ১২০ বিঘা জমির ওপরে নির্মিত এ পার্কটিতে ওয়াটার পার্ক, স্কাই ট্রেন, বুলেট ট্রেন, ওয়াটার বোট, রোলার কোস্টার, সুইং চেয়ার, স্পিডবোট ও ভূতের রাজ্য, ২৫টির উপরে রাইডে চড়ে আনন্দ উল্লাস করছেন সব বয়সী দর্শনার্থী এবং হরিন, বানর সহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি রয়েছে। এ সময় ডিজে মিউজিকের তালে তালে ওয়াটার কিংডমে পানির ঢেউয়ে দুলে নেচে গেয়ে পার্কে আনন্দ ফূর্তি করেন শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের মানুষ। চলছে হৈ হুল্লোড়, দাপাদাপি আর আনন্দ-চিৎকার।
এ ছাড়া এই পার্কে রয়েছে বর্তমান সরকারের সাফল্যের চিত্র স্বরূপ, স্বপ্নের পদ্মা সেতু, সাব মেরিন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, কর্ণফুলী ট্যানেল, দ্বীপ, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প আর্দশ গ্রাম সহ বিভিন্ন প্রকল্পের চিত্র। উৎসবের এই আড্ডায় পরিবার পরিজন অনেকেই চড়েছেন প্যাডেল বোটে, ঘুরে ঘুরে দেখছেন ভূতের রাজ্য। এদিকে হিমালয় পর্বতের সাদৃশ্য ফেনটম হিল দেখে মুগ্ধ হচ্ছে অনেকেই। দর্শনার্থীরা ৩৫০ টাকার বিনিময়ে পার্কে প্রবেশ করছেন। এ ছাড়াও রাইড প্রতি গুণতে হচ্ছে ৬০ টাকা থেকে
শুরু করে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকছে পার্কটি।
দর্শনার্থীরা জানান, ঢাকার খুব কাছে এবং মহাসড়কের পাশে হওয়ায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে এখানে সহজে আসা যাওয়া করা যায়। ঈদের পরদিন তাপদাহ কিছুটা বেশি থাকায় ঘুরতে ঘুরতে হাপিয়ে উঠে দর্শনার্থীরা। তবে ওয়াটার পার্কে গোসল করে স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানান তারা।

সিলেট থেকে প্রথম বারের মতো বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসেছেন কাউছার। তিনি জানান, পার্কে সুন্দর পরিবেশ। ঘুরে দেখে মুগ্ধ তিনি। পানিতে ডুবিয়ে বেশ আনন্দ পেয়েছেন। আবারো পরিবার নিয়ে আসবেন।
মাগুরা থেকে পরিবার নিয়ে এসেছেন মো. হোসেন ইমাম রাব্বি। তিনি বলেন, ছেলে মেয়ে অনেক খুশি, আমরাও অনেক আনন্দ করেছি। ঘুরে দেখে ক্লান্ত হয়ে গেছি। তবে সুনামির ঢেউয়ের তালে তালে গোসল করা অনেক ভালো লেগেছে।
ড্রিম হলিডে পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা বলেন, ঈদ ও পহেলা বৈশাখ ছাড়াও বিভিন্ন সময় নরসিংদীতে অবস্থিত আর্ন্তজাতিক মানের এই পার্কটিতে দর্শনার্থীরা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক মনোমুগ্ধকর পরিবেশে আনন্দ উদযাপন করতে পারেন সেদিক বিবেচনায় রেখে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এখানে সব বয়সী মানুষ বেড়াতে আসেন। দর্শনার্থীদের বিনোদন দিতে এবার নতুন নতুন বেশ কয়েকটা আর্কষণ রয়েছে। এর মাঝে ক্রেজি লিভারের মাধ্যমে সুনামি ঢেউ তুলে ওয়াটার পার্কের দর্শনার্থীদের অসাধারণ বিনোদন দেয়া হচ্ছে। যা এশিয়ার মাঝে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। বৃহৎ উন্নয়নের অবকাঠামো গুলো এই পার্কে রয়েছে। তাই মানুষ যেন বিদেশে ঘুরতে না গিয়ে আমাদের পার্কে একবার এসে ঘুরে যায় এই আহ্বায়ন জানাই। এবারো দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। ঈদ ও বৈশাখ ছাড়াও কয়েক দিন দর্শনার্থীর উপস্থিতি সন্তোষজনক থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ড্রিম হলিডে পার্ক পরির্দশন কালে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের মহাপরিচালক ডা.জীন্নাত রেহেনা বলেন,আমি আজ ড্রিম হলিডে পার্কে আসলাম এবং দেখলাম যে,২০১৫ সালে এখানে ছিলাম এবং সে সাল থেকে এখন পযর্ন্ত এখানে অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং আমি অনেক গুলো রাইড দেখেছি, পৃথিবীর প্রায় ২২টার মত দেশে ভ্রমণ করেছি,সে দেশ গুলোর এক্সপেরিয়েন্স থেকে আমি বলবো যে,ড্রিম হলিডে পার্কের যে এক্সপেরিয়েন্স,আজকে আমরা বিভিন্ন রাইডে উঠেছি আমার ছোট মেয়ে উম্মে হানি,সে আমার সাথে আছে,সে এই বছর ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তারও এ বিষয়ে এক্সপেরিয়েন্স হয়েছে। সবচেয়ে মজার কথা কি,আমার এই রাইড গুলো এতো মানসম্মত মনে হয়েছে এবং আমার মনে হলো যে আমাদের আসলে বিদেশে যাওয়ার তেমন কোনো প্রয়োজন নাই,আমরা দেশেই একখন্ড ইউরোপ অথবা সিঙ্গাপুর দেখতে পারি ড্রিম হলিডে পার্কে। আমাকে এই সুযোগ ড্রিম হলিডে পার্ক এর ব্যবস্থাপক প্রবীর সাহা । আসলে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ আমি আমার সন্তান এবং আমার পরিবার। ধন্যবাদ জানিয়েছেন ড্রিম হলিডে পার্ক এর ব্যবস্থাপক প্রবীর সাহা সহ সংশ্লিষ্টদেরকে। পরে নরসিংদী চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইডাট্রিজ এবং নরসিংদী ওমেন চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইডাট্রিজ পরির্দশন করেন ।
