কেনাকাটা করলেও ঈদ করা হলো না তাদের

ঈদের জন্য কেনাকাটা করলেও ঈদ করা হলো না দুই ভাইসহ তিনজনের।

গত শুক্রবার (২১ এপ্রিল) রাতে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিশখালীর হাজরাপাড়া ও নোয়াপাড়া নামক পৃথক স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই ভাইয়ের নাম ইমরান হোসেন (১৯) ও রিফাত হোসেন (১৬)। তাঁরা সাতক্ষীরার তালা উপজেলা মাগুরা গ্রামের আসাদ মোড়লের ছেলে।

অপরজনের নাম শেখ শাহিন (২৬)। তিনি তালা উপজেলার ধলবাড়িয়া এলাকার আবদুল বারিক শেখের ছেলে।

এছাড়া, এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন হাজরাপাড়ায় দুর্ঘটনায় আহত সুজন গাজী (২৫)। তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।

সুজন বলেন, সাতক্ষীরা থেকে ঈদের কেনাকাটা শেষে গতকাল রাত ৯টার দিকে তিনি আরও দুজনের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন।

হাজরাপাড়ায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস তাঁদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়।

এ ঘটনায় তিনিসহ ইমরান হোসেন ও রিফাত হোসেন গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিবাগত রাত ১২টার দিকে ইমরানের মৃত্যু হয়।

তাঁর ভাই রিফাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত তিনটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, নোয়াপাড়া নামক স্থানে দুর্ঘটনায় মৃত শেখ শাহিন ঢাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন তিনি। মাস চারেক আগে বিয়ে করেন তিনি।

প্রতিবেশী শেখ আলামিন জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন শাহিন।

গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় মির্জাপুর বাজারে ঈদের কেনাকাটা শেষে মোটরভ্যানে করে বাড়িতে ফিরছিলেন।

পথিমধ্যে নোয়াপাড়া বাজারে এলে দ্রুতগামী একটি মোটরসাইকেল ভ্যানটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে শাহিন ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় কয়েকজন শাহিনকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী ক্লিনিকে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

দুটি দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেন তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চৌধুরী রেজাউল করিম।

তিনি জানান, ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যাওয়া রিফাত হোসেনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে বাড়িতে।

অপরদিকে, শেখ শাহিনের মরদেহ এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া ইমরান হোসেনের মরদেহ আজ দুপুর একটা পর্যন্ত সাতক্ষীরা এসে পৌঁছায়নি।