দুই মামলায় ১৪ দিন জেল খেটে কারামুক্ত হন কোক স্টুডিও খ্যাত ঋতুরাজ ।
রাজধানীতে মদ্যপ অবস্থায় সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলায়
গত ১৭ এপ্রিল গ্রেফতার হন মিউজিক্যাল ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘কোক স্টুডিও বাংলা’র বুলবুলি গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া শিল্পী ঋতুরাজ বৈদ্য।
এরপর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গত ২৫ এপ্রিল এক হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন পান তিনি। মারধর ও ভাঙচুরের মামলায় জামিন পান ৩০ এপ্রিল।
গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এছকান্দার আলী এ দুই মামলার তদন্ত করছেন।
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, শিল্পী ঋতুরাজ বৈদ্যর বিরুদ্ধে করা মামলা দুটির তদন্ত গুরুত্বসহকারে চলছে।
তদন্ত শেষ হলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আল মামুন রাসেল বলেন, শিল্পী ঋতুরাজ বৈদ্য এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।
আদালতে সব বিষয় উপস্থাপন করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল দিনগত রাত ১০টার দিকে
রাজধানীর গুলশান থানাধীন গুলশান ২ নম্বর এলাকায় রূপায়ন টাওয়ারের সামনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের
অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুর রহমানের সরকারি গাড়িতে চালক অতুলচন্দ্র মন্ডল বসা ছিলেন।
এসময় ঋতুরাজ বৈদ্য মদ্যপ অবস্থায় পায়ে হেঁটে গাড়ির সামনে এসে গাড়ির ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড, বাম পাশের লুকিং গ্লাস ও একই পাশের হেডলাইট ভেঙে ফেলেন।
এসময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বোঝা যায় তিনি সম্পূর্ণ মদ্যপ অবস্থায় আছেন। তখন তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে ওয়াশ করেন।
এ ঘটনায় ওই রাতেই গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) হোসনে মোবারক বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
পরদিন ১৮ এপ্রিল আসামি ঋতুরাজ বৈদ্যকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত
কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এছকান্দার আলী সরদার।
এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঘটনার পরদিন ১৮ এপ্রিল মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ এনে গাড়ির চালক অতুলচন্দ্র মন্ডল বাদী হয়ে গুলশান থানায় পৃথক মামলা করেন।
এ মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই রাতে মামলার বাদী অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুর রহমানের সরকারি গাড়িতে বসা ছিলেন।
এমন সময় ঋতুরাজ বৈদ্য মদ্যপ অবস্থায় পায়ে হেঁটে গাড়ির সামনে এসে গাড়ির গতিরোধ করেন এবং গাড়ি সরাতে বলেন।
গাড়ি সরাতে দেরি হওয়ায় আসামি গাড়ির ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড, বাম সাইডের লুকিং গ্লাস ও হেডলাইট ভেঙে ফেলেন
এবং তাকে (বাদীকে) মারধর করে তার পকেটে থাকা ৩ হাজার ২৫০ টাকা ছিনিয়ে নেন।
গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ মামলায় ঋতুরাজকে ২৬ এপ্রিল শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়।
