যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যৌথ মহড়ার মধ্যে শুরুর আগেই নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত বাহিনীতে রূপান্তরের অঙ্গীকার করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মহড়াটি ২০২৩ সালে শুরু হয়েছিল। কর্মকর্তাদের মতে, পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় বা প্রতিরোধে এটি একটি যৌথ পদক্ষেপ। সরকারি বার্তা সংস্থা ‘কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি’-র তথ্যমতে, রবিবার ওনসান বন্দর নগরীতে ‘কাং কন’ নামক যুদ্ধজাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবহরে যুক্ত করার সময় কিম এই মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে পানিতে ভাসানোর সময় জাহাজটি আংশিক কাত হয়ে পড়েছিল।
অনুষ্ঠানে কিম বলেন, আমাদের নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত বাহিনীতে উন্নীত করার মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রকৃত যুদ্ধের প্রয়োজনে পারমাণবিক যুদ্ধ-ব্যবস্থাগুলো বহুমুখী ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়। তিনি আরও বলেন, যেকোনো সময় নির্দেশ পাওয়া মাত্রই এই নতুন প্রজন্মের ডেস্ট্রয়ার বা যুদ্ধজাহাজটি শত্রুর ওপর মারাত্মক পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম হবে; কারণ এটি রাষ্ট্রের পারমাণবিক পাল্টা ব্যবস্থা বা ‘নিউক্লিয়ার কাউন্টার-অ্যাকশন সিস্টেম’-এর একটি অংশ।
প্রকাশিত ছবিতে কিমের সাথে তার মেয়ে জু আয়ে-কেও দেখা গেছে, যাকে তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত বছর পানিতে ভাসানোর সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পর জুলাই মাসে কিম ‘কাং কন’-এর একটি পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। এটি ৫,০০০ টন ওজনের সেই দুটি যুদ্ধজাহাজের একটি, যা গত বছর চালু করা হয়েছিল।
কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বলেন, কিমের পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত নৌবাহিনীর কথা উল্লেখ করার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয়, এই জাহাজগুলো কৌশলগত পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে। কিম আরও জানান, উত্তর কোরিয়া নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যা আট মাসের মধ্যে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।
লিম বলেন, এর মাধ্যমে হয়তো কোনো বড় কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বা সম্পদের উন্মোচন হতে পারে। যেমন সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম নতুন কোনো সাবমেরিন। লিম আরও বলেন, ‘কাং কন’-কে পূর্ব সাগরে মোতায়েন করার মাধ্যমে পিয়ংইয়ং যৌথ নৌ-মহড়া এবং প্রতিপক্ষের পারমাণবিক সম্পদের অবস্থানকে সরাসরি এবং নিজেদের আওতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এই সপ্তাহের মহড়াটি ‘ফ্রিডম এজ’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণের আন্তর্জাতিক জলসীমায় আয়োজিত এই মহড়া আগামী শুক্রবার পর্যন্ত চলবে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের সাথে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে নির্ধারিত অন্য একটি সামরিক মহড়া সীমিত করা সত্ত্বেও, চলমান মহড়াগুলো অব্যাহত রয়েছে।
ট্রাম্পের এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি; বরং তারা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং সীমিত পরিসরের এই মহড়ার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন ও উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ করার কর্মসূচিতে অর্থায়নের পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেছে।
