‘৫ আগস্ট ২০২৪-এ আমি দুপুর ১২টা ৪০ বা ৪৫ মিনিটের দিকে আমার এক সোর্সকে ফোন দিলাম। তিনি আমাকে বললেন, শেখ হাসিনা রিজাইন করে পালিয়ে গেছেন। আমি তখন আমার বসকে ফোন দিলাম, আমার বস মানে হলো এএফপির সাউথ এশিয়ার প্রধান। ঘটনা বললাম, কিন্তু আমার বস বললেন, আমি এ রকম একটা সেনসিটিভ বিষয়ে সিঙ্গেল সোর্স ব্যবহার করে নিউজ তো দিতে পারব না।
‘কারণ শেখ হাসিনা চলে গিয়ে আগরতলায় নামতে না পেরে আবার ফিরে এলে তখন তো আমার সংবাদটাকে ভুয়া বলা হবে। বা সে যদি টিকে যেত, তাহলে তো বলত যে আমি রাষ্ট্রদ্রোহিতার কাজ করেছি। এতে আমার ফাঁসি বা গুমও হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল! সব মিলিয়ে এএফপি থেকে জানানো হয়, আরেকজন সোর্স নিশ্চিত করলে তাহলে দেয়া যাবে। পরে আরেকজনকে ফোন দিয়ে নিশ্চয়তা পেলাম। দ্বিতীয় সোর্সের কাছ থেকে আরও বিস্তারিত নিলাম। তাদের কাছে তথ্য ছিল যে উত্তরা থেকে ৫ লাখ লোক আসছে। আর শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী ওই দিক থেকে আরও সাড়ে ৩ লাখ লোক আসছে। এসএসএফের কথায় সব লোক ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে আসলে জনস্রোত তারা ঠেকাতে পারবে না। আর এত লোককে হত্যা করে টিকে থাকাও তো অসম্ভব। সেই জায়গা থেকে শেখ হাসিনাকে জোর করা হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা বিটিভিকে ডেকে জাতির উদ্দেশে একটা ভাষণ রেকর্ড করতে চেয়েছিলেন। ওই রেকর্ডটা আর এসএসএফ করতে দেয়নি। কারণ ওই সময়টুকুও ছিল না’, যোগ করেন শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, ‘ওরা প্রথমে রওয়ানা দেয় বাংলাদেশ-চায়না সেন্টারের দিকে। তাদের প্রথম পরিকল্পনা ছিল, ওইটা দিয়ে জাহাঙ্গীরগেইট হয়ে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে কুর্মিটোলা এয়ারবেস হয়ে এয়ারপোর্টে ঢুকবে। কিন্তু বাংলাদেশ-চায়না সেন্টারের কাছে আসতে আসতে তারা খবর পেল, উত্তরার জনস্রোত এরইমধ্যে বিমানবন্দরের কাছাকাছি চলে এসেছে। তখন তারা বললো এটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। এরপর তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তেজগাঁওয়ে পুরানো বিমানবন্দরে গিয়ে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে চলে গেল।’

2 Replies to “শেখ হাসিনার পলায়নের খবর যেভাবে পেয়েছিলেন প্রেসসচিব”
Comments are closed.