২০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে ১২টিতে ঐকমত্য: আলী রীয়াজ

কমিশনের আলোচ্য ২০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে ১২টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ।

তিনি জানান, বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে সব বিষয় নিষ্পত্তির মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক দলিল তৈরি করতে চায় কমিশন।

সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত কমিশনের ২০তম সভার শুরুতে একথা জানান তিনি।

আলোচনার সূচনায় ড. আলী রীয়াজ বলেন, ‘যেসব বিষয় এখনও অমীমাংসিত, সেগুলো নিয়ে আজ আলোচনা হবে। আমরা ইতোমধ্যে বেশকিছু বড় বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করেছি।’

আলী রীয়াজ বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দ্বিতীয় পর্যায়ের অব্যাহত আলোচনায় এ পর্যন্ত ১২টি বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা সমাপ্ত হবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, ‘কমিশনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক প্রস্তাবনাগুলো একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হতে পারে। এখন পর্যন্ত ১২টি বিষয়ে ঐকমত্য এসেছে। আমরা বাকি বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও সবার সম্মতি আদায়ের চেষ্টা করছি, যেন দেশ আবারও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে না যায়। আমাদের লক্ষ্য, একটি ঐতিহাসিক দলিল তৈরি করা—যা ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশের পথরেখা নির্ধারণ করবে।’

তিনি জানান, কমিশন আশা করছে জুলাই মাসের মধ্যেই সব রাজনৈতিক দল ‘জুলাই সনদ’-এ স্বাক্ষর করে এটিকে একটি ঐতিহাসিক ঐকমত্যের দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

“যদি বড় রকমের মৌলিক আপত্তি ওঠে, তাহলে আলোচনায় আনব, না হলে আনব না। আপনাদের পক্ষ থেকে মতামত দেওয়া হলে তা সন্নিবেশিত করে প্রাথমিক সনদে… সেখানে ভূমিকা পটভূমি থাকবে এবং কমিটমেন্টের জায়গা থাকবে।”

জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের জন্য সংলাপে একটি দিন বরাদ্দ করা হবে বলেও আলী রীয়াজ জানিয়েছেন।

যে ১২ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে––

১. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন

২. সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্ব

৩. নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ

৪. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা-সম্পর্কিত বিধান

৫. উচ্চ আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ

৬. পর্যায়ক্রমে উপজেলায় পর্যায়ে নিম্ন আদালত স্থানান্তর

৭. জরুরি অবস্থা জারির ক্ষমতা

৮. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ

৯. নির্বাচন কমিশন গঠন পদ্ধতি

১০. প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধান সংস্কার

১১. প্রধানমন্ত্রী পদে ১০ বছরের বেশি নয়

১২. স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন

বর্তমান বাংলাদেশ সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে ‘জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা’ রয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এর বদলে পাঁচটি মূলনীতি সুপারিশ করছে। সেগুলো হল–সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি।

সিপিবি, বাসদ, বাসদ-মার্কসবাদী ও বাংলাদেশ জাসদ–এই চার বামপন্থি দল বলছে, বিদ্যমান মূলনীতিগুলো বাদ দেওয়া যাবে না। বরং কমিশন প্রস্তাবিত নতুন মূলনীতি এর সঙ্গে যোগ করা যেতে পারে। বিদ্যমান মূলনীতিগুলো বাদ দিলে তারা আলোচনা বয়কট করবে।

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া ‘আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস’ রাখার কথা বলে আসছিল। তবে কমিশন এখন যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে তাদের আপত্তি নেই।

 

এনএএন টিভি