উত্তর আফগানিস্তানের মাজার-ই-শরীফ শহরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩২০ জন। দেশটির স্বাস্থ্য অধিদফতর আশঙ্কা করছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সোমবার ভোরে এই ভূমিকম্পে কয়েকটি গ্রাম ও স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, সোমবার (৩ নভেম্বর) ভোরে স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫৯ মিনিটে আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলের খোলম এলাকায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এটি মাজার-ই-শরিফ শহর থেকে খুব কাছেই অনুভূত হয়। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির গভীরতা ১০ কিলোমিটার বলা হলেও পরে সংশোধন করে ২৮ কিলোমিটার (১৭ মাইল) নির্ধারণ করা হয়। এই ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলোতেও কম্পন অনুভূত হয়।
তালেবান সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পের পর উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বেশিরভাগ ঘরবাড়ি কাঁচা ইট ও মাটির তৈরি হওয়ায় ধসের পর বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বালখ প্রদেশের মুখপাত্র হাজি জায়েদ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে মাজার-ই-শরিফের ঐতিহাসিক পবিত্র স্থাপনা ‘ব্লু মসজিদ’-এর একটি অংশ ধ্বংস হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, সামরিক বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে।
দেশটির পূর্বাঞ্চলে এর আগে, মাত্র দুই মাস আগে আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান এমন এক ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে যেখানে প্রায়ই মাঝারি থেকে প্রবল কম্পন অনুভূত হয়। ফলে দেশটিতে মানবিক সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

One Reply to “ভয়াবহ ভূমিকম্পে আফগানিস্তানে ২০ জনের মৃত্যু”
Comments are closed.