ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় যৌতুকের ঘটনায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় যৌতুকের ঘটনায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী মোঃ রাসেল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ শারমিন নিগারের আদালত এ রায় দেন।

পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানারও আদেশ দেয়া হয়।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল মিয়া জেলার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউপির চন্ডিদ্বার খিরনাল গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে।

হত্যার পর থেকেই ঘাতক রাসেল পলাতক রয়েছে।

আদালতে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন ও নথিপত্র থেকে জানা যায়,

২০১৩ সালে জেলার কুটি ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার মেয়ে সুমা আক্তারকে (২৫) বিয়ে করেন রাসেল মিয়া।

বিয়ের সময় অটোরিকশাসহ প্রায় এক লক্ষ ২০ হাজার টাকার মালামাল ও স্বর্ণের চেইন দেওয়া হয়।

তবে বিয়ের পর থেকে রাসেল মিয়া বিভিন্ন সময় সুমাকে বাবার বাড়ি থেকে আরো টাকা এনে দিতে চাপ প্রয়োগ করছিল।

এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে সুমার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালালে সুমা বাবার বাড়িতে চলে যায়। এরপর থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল স্বামী রাসেল।

২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর সন্ধ্যার পর সুমা বাবার বাড়িতে রাতের খাবার পেয়ে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাওয়ার সময় রাসেল এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।

পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সুমাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

ঘটনার পরদিন সুমার বাবা কসবা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেলাল হোসেন তদন্ত শেষে রাসেলকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সুমাকে ক্ষুব্ধ হয়ে রাসেল তাকে হত্যা করেন।

তবে হত্যার পর থেকে রাসেল পলাতক থাকায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছাড়া আসামিপক্ষের নিয়োজিত কোন আইনজীবী কেউ ছিল না।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের পুলিশ পরিদর্শক কাজি দিদারুল আলম।

আরও পড়ুন :

এনএএন টিভি